দেশের এগ্রো-কেমিকেল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করতে কাঁচামাল আমদানির সোর্স উন্মুক্ত করা, কাঁচামালের সহযোগি রাসায়নিক আমদানির শুল্ককর প্রত্যহার এবং অগ্রাধিকার খাত হিসেবে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ ও রপ্তানিতে প্রণোদনা সুবিধা চেয়েছেন উদ্যোক্তারা।
শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে কৃষিখাতের উৎপাদন খরচ কমাতে আমদানি বিকল্প দেশীয় বালাইনাশক উৎপাদকদের বাধা ও চ্যালেঞ্জ শীর্ষক এক কর্মশালায় ব্যবসায়ীরা এ দাবি জানান।
দেশের কৃষিখাতকে টেকসই করতে ওষুধ শিল্পের মতো বালাইনাশকখাতে দেশীয় উৎপাদকেদের অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের উপরও জোর দিয়েছেন তারা।
কর্মশালায় বাংলাদেশ এগ্রো-কেমিকেল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন এর প্রেসিডেন্ট মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশীয় কোম্পানিগুলো যাতে সস্তায় কাঁচামাল আমদানি করতে না পারে, সেজন্য বহুজাতিক কোম্পানি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বালাইনাশকের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে সিঙ্গেল কান্ট্রি সিঙ্গেল সোর্স এর বিধান করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। যেহেতু বহুজাতিক কোম্পানিগুলো অন্য দেশে থাকা তাদের কারখানা থেকে বেশি দামে পণ্য আমদানি করে, তাই এই আইনের কারণে তাদের সুবিধা হলেও দেশীয় কোম্পানিগুলো বিপদে পড়েছে। অন্য দেশে কাঁচামাল ও রাসায়নিকের দাম কম হলেও সেখান থেকে আমদানি করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দিতে আইনের ব্যত্যয় করে বিধিমালায় রুলস অব অরিজিনের শর্ত যোগ করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে দেশীয় কোম্পানিগুলো ভিন্ন সোর্স থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে চাইলে সেজন্য ফিল্ড ট্রায়ালসহ কমপক্ষে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ওষুধ শিল্পের মতো এগ্রো-কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রির কাঁচামাল ও সহযোগি রাসায়নিক আমদানির সোর্স উন্মুক্ত করার পাশাপাশি রাসায়নিক আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা এবং অগ্রাধিকার খাত হিসেবে স্বল্প সুদে ঋণ ও রপ্তানি প্রণোদনার প্রস্তাব করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এসব সুবিধা পাওয়া গেলে তিন বছরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকায় রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. আব্দুল করিম বলেন, কাঁচামালের সিঙ্গেল সোর্স জটিলতা, কাঁচামাল উৎপাদন নীতিমালার অভাব, বেআইনিভাবে প্যাটেন্ট পণ্যে মানোপলি, বন্দর থেকে কাঁচামাল খালাসে জটিলতার কারণে আমদানি বিকল্প দেশীয় বালাইনাশক উৎপাদকরা টিকতে পারছে না।
তাই সিঙ্গেল সোর্স প্রথা বাতিল, প্যাটেন্ট আইন ও ফোর্স লাইসেন্সিং কার্যকরী, পিটাক পুনগঠন, কাচামাল আমদানিতে এনওসি বাতিলের সুপারিশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব জাকির হোসেন বলেন, যেকোন মুল্যে বালাইনাশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হবে। এজন্য ওষুধ শিল্প সমিতিও সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নাহিদ আফরোজ আশ্বস্ত করে বলেন, এইখাতের বিকাশে যেসব সুপারিশ এসেছে, সেগুলো যাতে কার্যকর করা হয়, সেজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে দেশে এগ্রো-কেমিকেল মার্কেটের সাইজ প্রায় ৭৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাতটি বহুজাতিক কোম্পানি ও দেশীয় আমদানিকারকরা নিয়ন্ত্রণ করছে ৯০% এর বেশি। ১৭টি স্থানীয় কোম্পানি মাত্র ৬% বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।