সেন্টমার্টিনে অষ্টম দিনেও নৌযান চলাচল বন্ধ, তীব্র হচ্ছে নিত্যপণ্যের সংকট

বৈরি আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় অষ্টম দিনেও স্বাভাবিক হয়নি টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌ রুটে নৌযান চলাচল। ফলে দ্বীপে নিত্যপণ্যের সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে দ্বীপের এক হাজার পরিবারকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষে সোমবার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সোমবার সকাল থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে এক হাজার পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৫ কেজি চাল, ১ কেজি আটা, এক লিটার তেল, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি লবণ।

তিনি আরও বলেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে গত শনিবার সেন্টমার্টিন দ্বীপে চারিদিকের বিভিন্ন পয়েন্টে লোকালয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। এতে করে ৫০ থেকে ৬০টি বসতবাড়ি প্লাবিত হয়। সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিমপাড়া সৈকতের ইনানী খাল কেটে দেওয়ায় জোয়ারের পানি ও বাড়ি বর্ষণ পানি সাগরে নেমে গেছে। এতে করে মানুষের কিছুটা হলেও ভোগান্তি কমলে কিন্তু অষ্টম দিনের মতো টেকনাফের সঙ্গে সেন্টমার্টিন দ্বীপে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে নিত্যপণ্য সামগ্রীর সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে চলাচলকারী সার্ভিস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, সোমবার সারাদিন ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় টানা অষ্টম দিনের মতো নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই নৌযান চলাচল শুরু হবে।

সার্ভিস ট্রলার টিকেট বিক্রেতা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত টেকনাফ পৌরসভার কাযুকখালীয়া খালের ঘাটের টেকনাফে আটকে পড়া লোকজন সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য টিকেট কাউন্টারে এসে ভিড় করছিলেন। কিন্তু সাগর উত্তাল থাকায় কোনো নৌযান সেন্টমার্টিন দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হয়নি। অনেকে বিমুখ হয়ে ফিরে গেছেন।

দ্বীপের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ আলম বলেন, দ্বীপে তরি-তরকারি বলতেই কিছুই নেই। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সংকট দেখা দিয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। রবিবার চেষ্টা করে সার্ভিস ট্রলার পাঠানো হলেও মাঝপথ থেকে ফেরত এসেছে।

সর্বশেষ গত ২৫ মে সেন্টমার্টিনে পণ্য ভর্তি নৌযান গেছে। ওই দিন বিকেলে বৈরি আবহাওয়ার কারণে উপজেলা প্রশাসন সেন্টমার্টিন নৌপথে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এরপর অষ্টম দিনে এসে স্বাভাবিক হয়নি নৌযান চলাচল।