সুদ গুনতে ব্যয় হবে ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা

একসময় বাজেটের সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত ছিল শিক্ষা। কিন্তু ধীরে ধীরে সরকারের প্রাধিকার স্থানান্তরিত হতে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ধীরে ধীরে ভৌত অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ বাড়তে থাকে। আর এসব অবকাঠামো বাস্তবায়নে দেশি-বিদেশি নানা উৎস থেকে অনেক বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়। এসব ঋণের মধ্যে অনেকগুলো অপ্রয়োজনীয় ঋণও ছিল। সময়ের পরিক্রমায় সেসব ঋণ পরিশোধের সময় হয়েছে।

ফলে বর্তমানে বাজেটের খাতভিত্তিক ব্যয়ে সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত হিসেবে স্থান দখল করে নিয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ। আগামী অর্থবছরের জন্য ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২২ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। 

প্রস্তাবিত বাজেট ঘাটতি ও অর্থায়নের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী অর্থবছরে আমাদের সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ও ঋণ সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। 

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে নির্বাহ করার প্রস্তাব করছি। আগামী অর্থবছরে সুদ পরিশোধ বাবদ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ২২ হাজার কোটি টাকা। আর বাকি ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হবে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণ ও সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধে।

গত অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ২১ হাজার ৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, মূল বাজেটের তুলনায় সংশোধিত বাজেটে সুদ বাবদ ব্যয় বেড়েছে ৮ হাজার কোটি টাকা। অথচ অন্যসব খাতে সংশোধিত বাজেটে ব্যয় কমানো হয়েছে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, সরকারের বর্তমান যে ঋণ পরিস্থিতি, তা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী বছরগুলোয় ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়তে থাকবে।

সংশোধিত বাজেট ঘাটতি ও অর্থায়নের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি প্রস্তাব করা হচ্ছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ১ শতাংশ।

গতকাল বেলা ৩টায় জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা। এটি দেশের ৫৪তম বাজেট এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট। প্রতিবছর জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করা হলেও এবার সংসদ না থাকায় তা ঘোষণা করা হচ্ছে বেতার-টেলিভিশনের মাধ্যমে।

এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম। এর আগে গতকাল দুপুরে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

আগামী বছরের ২৪ নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বেরিয়ে যাবে বাংলাদেশ। তখন স্বল্পসুদে বিদেশি ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ কমে যাবে। ফলে এখন থেকেই ঋণ ব্যবস্থাপনায় নজর দেওয়া হচ্ছে বলে বাজেটের সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।