শৃঙ্খলায় চলুক পশুর হাট

আগামী ৭ জুন দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদের বাড়তি আনন্দ কোরবানির পশুর হাট।  সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছিল ৩ জুন, আজ থেকে রাজধানীতে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এরই মধ্যে ঢাকার পোস্তগোলা, দোলাইরপাড়, শনির আখড়া, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, আফতাবনগরসহ অন্তত ২০ জায়গায় গরু চলে এসেছে। রাজধানীর হাটগুলোতে মাঝেমধ্যে দেখা মিলছে ক্রেতাও। কোরবানির তিন দিন বাকি থাকলেও ঢাকার দুই সিটির ২১টি পশুর হাটের মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে তিনটি ও উত্তরে তিনটি হাটের ইজারা দেওয়ার কথা আজ। ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে বসবে ৪ সহস্রাধিক পশুর হাট। রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ সিটিতে ১১টি অস্থায়ী ও উত্তর সিটিতে ৯টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে।  এ ছাড়া এগুলোর সঙ্গে গাবতলী ও সারুলিয়ার স্থায়ী হাট দুটি যুক্ত হবে। কোথাও কোথাও শুরু হয়ে গেছে বেচাকেনা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে হাট চালুর নির্দেশনা দেয়। কিন্তু বাস্তবে তা মানা হয় না।

রাজধানীর পশুর হাটগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে এবার ব্যাপক অভিযোগ করছেন ব্যাপারীরা। হাটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু না হলেও ক্রেতারা হাটে আসছেন। কিন্তু ব্যাপারীরা অতিরিক্ত দাম চাচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের। যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘পবিত্র ঈদুল আজহার সময় সাধারণত আমাদের কোরবানির গরুর হাটগুলোর মধ্যে শৃঙ্খলার ঘাটতি দেখা যায়। সেজন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যেসব কোরবানির পশুর বা গরুর গাড়ি আসবে সেসবের সামনে সুনির্দিষ্ট হাটের তথ্য থাকতে হবে। যেখানে-সেখানে গরু নামাতে পারবে না। রাস্তায় গরু না নামিয়ে নির্ধারিত স্থানে নামাতে হবে।’

কোরবানি ঈদের আগে রাজধানীতে পশুর হাটকেন্দ্রিক একটি ব্যস্ততা থাকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু ও ছাগলসহ নানা পশু রাজধানীর হাটগুলোয় বিক্রির জন্য তোলা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতিতে গরম হয়ে ওঠে পশুর হাট। এসব হাটে খামারিদের থাকা-খাওয়া, নিরাপত্তা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয় প্রতিবছর। সরকার বলছে, এবার কোরবানির পশুর হাটে কোনো অব্যবস্থাপনা হবে না। সৃষ্টি হবে না যানজট। হবে না কারও ভোগান্তি। পশুর হাটের কারণে স্বাভাবিক যানচলাচল ব্যাহত হলে, কেউ চাঁদা নিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন কথা সব সরকারই বলে। কিন্তু রাজধানীর বাস্তবতা সে কথা বলে না। 

পশুর হাটকেন্দ্রিক নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, ‘পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মানি এস্কর্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ব্যাপারী যে হাটে পশু নিতে চায় সেই হাটেই পশুর ট্রাক নিতে সহায়তা করবে ডিএমপি। কেউ বাধা দিতে পারবে না। বাধা দিলে ৯৯৯-এ ফোন করতে বলা হয়েছে।’ র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখা থেকে বলা হয়েছে, রাজধানীতে পশুর হাটকেন্দ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। টহল টিম বাড়ানো হয়েছে। কোথাও কোথাও অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ছিনতাই ও অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সবাইকে সতর্ক থাকতেও বলা হয়েছে। পশুর হাটে আসা এক খামারি জানিয়েছেন, দুদিন ধরে হাটে এলেও কোনো ব্যবস্থাপনা ঠিকঠাক পাচ্ছেন না। এমনকি হাটে পানিও পাওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টির কাদাপানিতে গরু রাখতে হচ্ছে।

পশুর হাট যেন সিটি করপোরেশন কর্র্তৃক নির্ধারিত চৌহদ্দির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। যদিও অনেক জায়গায় হাটের নির্ধারিত সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তা, গলিপথ এমনকি আবাসিক ভবনের সামনেও পশু রাখা হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন নির্বিকার। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যত কথাই বলুক, কোরবানির পশুর হাট নিয়ে যে ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়ে আসছে, তার সুষ্ঠু সমাধান করাই আসল চ্যালেঞ্জ। অবশ্য এখনো সময় আছে। দেখা যাক, হাট ব্যবস্থাপনায় হ-য-ব-র-ল অবস্থাই শেষ পর্যন্ত থাকে, নাকি শৃঙ্খলা ফিরে আসে?