গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ৯ সন্তান হারানো ফিলিস্তিনি নারী চিকিৎসক এবার তার স্বামীকেও হারিয়েছেন। গাজার খান ইউনিস শহরের নাসের হাসপাতালে কাজ করা চিকিৎসক আলা-আল-নাজ্জারের বাড়িতে গত ২৩ মে বোমা হামলা চালায় ইসরায়েল। সে সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কাজে ছিলেন তিনি। তার স্বামী হামদি আল-নাজ্জারও একই হাসপাতালে কাজ করতেন। হামলার দিন ১০ সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে নারী চিকিৎসকের স্বামী। এ হামলায় তাদের ১০ সন্তানের মধ্যে ৯ জনই মারা যায়। মৃত সন্তানদের সবারই বয়স ছিল ৬-১২ বছরের মধ্যে। হামলায় হামদি আল-নাজ্জার গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তাকে এবং তার ১১ বছর বয়সী এক সন্তানকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হামদির মস্তিষ্ক এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষতের চিকিৎসা চলছিল। নাসের হাসপাতালে কাজ করা বুলগেরীয় এক চিকিৎসক জানান, হামদির ব্রেন, ফুসফুস, ডান হাত এবং কিডনি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার উত্তরাঞ্চলের একমাত্র ডায়ালাইসিস সেন্টার ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি বাহিনী উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় অবস্থিত নোরা আল-কাবি কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারে বোমা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ সেন্টারটি ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালের অংশ এবং এটি ছিল উত্তর গাজার একমাত্র ডায়ালাইসিস সেন্টার, যা ১৬০ জনেরও বেশি কিডনি রোগীকে সেবা দিচ্ছিল। গুরুত্বপূর্ণ এ অবকাঠামোতে এর আগেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এবার এটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হলো।
এদিকে, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সল বিন ফারহান আল সৌদ বলেছেন, আরব মন্ত্রীদের একটি প্রতিনিধিদলকে দখলকৃত পশ্চিম তীরে প্রবেশ করার অনুমতি না দিয়ে ইসরায়েল সরকার তাদের ‘চরমপন্থা ও শান্তি প্রত্যাখ্যান’ প্রদর্শন করেছে। গত রবিবার পশ্চিম তীরের রামাল্লায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আরব মন্ত্রীদের এ বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। এ উদ্দেশে জর্ডান, মিসর, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাসহ ঊর্ধ্বতন আরব কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদলের রামাল্লায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েলের বাধায় আরব মন্ত্রীরা রামাল্লা সফর স্থগিত করতে বাধ্য হন। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাসহ ঊর্ধ্বতন আরব কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিদলটি জর্ডানের রাজধানী আম্মানে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে। এ বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিবৃতি দেন।