দৃঢ় সংকল্পহীন গতানুগতিক বাজেট

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সোমবার জাতির সামনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছেন। তার প্রস্তাবিত বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি আরও হ্রাস, ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়মকানুন সহজ করে তা বৃদ্ধি করা, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উত্তরণ ঘটানোর জন্য তাগিদ রয়েছে। এটি হলো দেশের ৫৪তম বাজেট এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট। বাজেট হলো সরকারের একটি আর্থিক আইন, যেখানে দেশের নানা খাতের আয়-ব্যয়ের ম্যান্ডেট সরকারকে দেওয়া হয়। এই আয়-ব্যয়ের গুণগত ও পরিমাণগত দিক রয়েছে। বাজেটে নানা ধরনের উন্নতির বয়ান সরকার জনগণকে অবহিত করেন। উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক নয় আমাদের দরকার পরিবেশের উন্নয়ন, মনের উন্নয়ন, সামাজিক ও ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ববোধে এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়ন। এই কাজটি মূলত রাজনীতিবিদদের। সেখান থেকেই উদ্যোগগুলো নিতে হবে। 

বাজেটে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে সরকার এসেছে, তার রাজনৈতিক ম্যান্ডেট অনেক সুদৃঢ় ও সুদূরপ্রসারী হওয়ার কথা। জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈষম্য, বঞ্চনা ও আর্থ-রাজনৈতিক অবহেলা দূর করাও এই সরকারের অন্যতম ম্যান্ডেটের মধ্যে পড়ে। আমাদের মনে রাখা দরকার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা অন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আগমন ঘটেছে। ছাত্র-জনতার অনেকেই এই সরকারের কর্মপরিধি শুধুমাত্র সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মধ্যে রাখতে রাজি নন। এটি গণঅভ্যুত্থানের চেতনারও পরিপন্থী। তাই নানাবিধ কর্মসূচি, যেমন অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র প্রকাশ, সংস্কার কমিশন গঠন ও তার আলোকে প্রয়োজনীয় বহুমুখী সংস্কার কার্যক্রম নেওয়ার এখতিয়ার এই সরকারের রয়েছে। আর, এসব কিছু সঠিকভাবে করতে গেলে একাধিক জুতসই বাজেট দরকার। বাজেট হলো সরকারের আয় ও ব্যয়ের একটি হিসাব, যেখানে উন্নয়নের স্বার্থে যুক্তিযুক্ত ব্যয়কে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। গত ১৫ বছরে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান যেভাবে বিনষ্ট করা হয়েছে, তাতে আগামী বেশ কয়েকটি বাজেট ও অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রম যৌথভাবে নেওয়ার মাধ্যমে এ দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। মানুষ যে আরও দরিদ্র হচ্ছে, কমছে তাদের আয় আর অনেকে কর্মহীন হচ্ছেন, সেখান থেকে উত্তরণের কোনো পরিকল্পনা দেওয়া হয়নি বাজেটে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নানা রকম অনিশ্চয়তার কারণে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশেরও কম হবে বলে মনে করা হচ্ছে, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে। পতিত সরকারের লাগামহীম দুর্নীতি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির নামে টাকার হরিলুট, ট্যারিফবহির্ভূত বাধা, কর ফাঁকি ইত্যাদি বিষয় চটজলদি দূর হবে না। কিন্তু নতুন রাজনৈতিক সরকারের এ বিষয়ে ইস্পাত-দৃঢ় প্রতিজ্ঞা থাকতে হবে। তাদের প্রত্যেককে কাজ করতে হবে নিবিষ্ট মনে। অর্থ উপদেষ্টা আশা করছেন, নতুন অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৫.৫ শতাংশ বা তার আশপাশে থাকতে পারে। পতিত সরকার তথ্য বিকৃত করে বিদায়ী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬.৮ শতাংশ দেখানোর চেষ্টা করেছিল।

অর্থনৈতিক কর্মকা- সচল করুন : একটি স্থবির অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাকরি তৈরি করা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বহুমুখী আয়োজনের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে রয়েছে নতুন খাত সৃষ্টি করা, পুরাতন গতানুগতিক খাতে উদ্ভাবনী প্রয়োগ করা, অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ছোট ব্যবসাগুলোতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। এ সবের জন্য চাকরি সৃষ্টি ও সামাজিক নীতিগুলো সংহত করা, দক্ষতা বাড়ানো এবং কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া উচিত। আরও খোলাসা করে বলা যায় দেশে উদ্ভাবনের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করতে হবে। গবেষণা এবং নতুন খাতের বিকাশকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, স্টার্টআপগুলোকে সমর্থন এবং তাদের তহবিল জোগান এবং পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা দিতে হবে। ছোট ব্যবসাগুলোতে বিশেষ মনোযোগ লাগবে। কেননা এখানে দেশের বেশিরভাগ মানুষ নানা কাজকর্মে যুক্ত রয়েছেন। এই খাত নতুন চাকরি ও পরিষেবা তৈরি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে দেয়। কেইনস বলেছেন, কর্মসংস্থান নির্ধারণে ন্যায্য মজুরির গুরুত্ব অনেক। তিনি বলেছেন, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার জন্য নীতিমালা থাকতে হবে। যাতে করে শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে যা কি না দেশের সামগ্রিক চাহিদা প্রসারিত করবে এবং এর মাধ্যমে নতুন চাকরির সৃষ্টি হবে। তিনি এই মত দিয়েছিলেন ঐতিহাসিক মার্কিন ‘গ্রেট ডিপ্রেশন’-এর সময়ে যার পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় মার্কিন সরকার বেশ কিছু সরকারি প্রকল্প গ্রহণ এবং শ্রমিকদের মজুরি সমন্বয় করেছিল।

সরকারি উদ্যোগ দরকার এখনই : যেহেতু বাংলাদেশের অর্থনীতি (জিডিপি) সংকুচিত হচ্ছে, তাই সরকারের বসে থাকার সময় নেই। এখনই সময় ভালো মানের অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার। সেই সঙ্গে পরিবহন, জ্বালানি এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ক খাতে বিনিয়োগ হলে চাকরি তৈরি হবে। কিছু কিছু প্রকল্পে, যেমন সান্ধ্য বিনোদন, ইনডোর গেমস, পর্যটন ও গ্রামীণ পর্যটন, কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়া এসব ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। একই সঙ্গে, যে অঞ্চলগুলো পিছিয়ে রয়েছে যেমন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রংপুর সেইসব এলাকাতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ বিশেষ স্থানে তৈরি করা যেতে পারে ২৪ ঘণ্টা রেস্তোরাঁ,  চা-কফির দোকান এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় শিশু-কিশোর এমনকি বড়দের জন্য সুইমিংপুল, সান্ধ্য বিদ্যালয়, বিনোদন পার্ক। কাউন্সেলিং ও ব্যাংকগুলোতে বিশেষ প্রকল্প নিয়ে নিম্নবিত্তদের মধ্যে কর্মের উদ্দীপনা তৈরি করে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে তাদের উৎসাহিত করতে হবে। অর্থাৎ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং চাকরি তৈরি করতে নির্দিষ্ট শিল্প বা অঞ্চলগুলোতে টার্গেট করে প্রণোদনা চালু করা যেতে পারে। একটি নতুন খাত যেমন গ্রামে ইজিবাইকের প্রচলন, প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যথেষ্ট অবদান রেখেছে। কিন্তু এ বিষয়ে গবেষণা তেমন হয়নি।  

প্রয়োজন কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা বাড়ানো : এ জন্য দরকার, শিক্ষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করা। বিশেষত, ডিজিটাল দক্ষতা এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে শ্রমিকের ভবিষ্যৎ কর্মশক্তিকে ত্বরান্বিত করতে হবে। আজীবন শিক্ষা চালু করে কর্মীদের দক্ষতার উত্তরণ ঘটাতে এবং কাজের বাজার পরিবর্তনের সঙ্গে তাদের খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে নানা বিধিবিধান সহজ করতে হবে এবং বিনিয়োগ এবং চাকরি সৃষ্টিকে উৎসাহিত করতে আমলাতান্ত্রিক বাধা দূর করতে হবে। প্রয়োজনে আমলাদের এ বিষয়ে বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া যেতে পারে। ব্যবসায়ের জন্য আরও স্থিতিশীল এবং অনুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরি করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি বিদায় করতে হবে।

কেন প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ছে না? : কয়েক বছর আগে, ইন্টান্যাশনাল স্টাডিজ কোয়ার্টারলি সাময়িকীতে তিনজন গবেষক উন্নয়নশীল দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হওয়ার পেছনে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও ব্যাংকগুলোকে মূলত দায়ী করেছেন। Aiming Wrong Targets: The Domestic Consequences of International Efforts to Build Institutions প্রবন্ধে ক্যালিফের্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্তা বারবারা ক্যাম্পাসের মার্ক টি. বানটেইন, স্টান্ডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বেঞ্জামিন পি. বাক এবং উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি কলেজের ব্র্যাডলি সি পার্ক্স বলছেন প্রকৃত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণের পরিবর্তে এসব আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ‘প্রসাধনী’ পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে চলেছে। তাই উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বা কর্মদক্ষতা সেভাবে বাড়ছে না। প্রবন্ধের গবেষকরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো চুরি হওয়া সরকারি তহবিল শনাক্ত বা পুনরুদ্ধার করার কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই দুর্নীতি দমন কমিশন তৈরি করে। তারা এমন আইন প্রণয়ন করে, যা কি না মানব পাচারে অপরাধী চক্র গড়ে তোলে আর আসল যে উদ্দেশ্য পাচারকারীর তদন্ত বা বিচার, তা করতে ব্যর্থ হয়। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করার আইনি প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য ওয়ান-স্টপ-সার্ভিস তৈরি করে কোনো ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ কী তা মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়। একইভাবে, তারা আদালত প্রতিষ্ঠা করে এবং বিচারককে নিয়োগ করে কিন্তু বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপকে মোকাবিলা করতে পারে না। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলো তাদের উন্নয়নশীল দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা না বাড়িয়ে বরং কমিয়ে দেয়। তারা টার্গেট দেশে প্রতিষ্ঠানের গঠনকে উৎসাহিত করে কিন্তু তার কর্মক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দেয় না। এতে করে প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত অক্ষম রয়ে যায়। যেসব উন্নয়নশীল দেশ অনুদান পাওয়ার যোগ্য এবং বাজার হারের নিচে ঋণ নেয় তাদের প্রকল্পের লক্ষ্যপূরণের জন্য তারা খুবই উৎসাহিত। কেননা লক্ষ্যপূরণ হলেই তারা আবারও ঋণ নিতে পারবে। ফলে যা হয়, তাহলো তারা প্রায়শই সহজ লক্ষ্য নির্বাচন করে এবং দিনশেষে উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে দেখায় যে তারা পারঙ্গম।    

স্বাস্থ্যে বরাদ্দ কম ফেরত বেশি : দেশ রূপান্তরের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন বলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বাজেট সবচেয়ে কম জিডিপির শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ মাত্র। এ বরাদ্দও ঠিকমতো খরচ করতে পারছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রতি বছর বরাদ্দের গড়ে ২৮ শতাংশ ফেরত যায়। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে ফেরত গেছে বরাদ্দের ৩৯ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ফেরত যাচ্ছে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ থেকে, বছরে গড়ে ৩২ শতাংশ এবং সেবা বিভাগ থেকে গড়ে ২৭ শতাংশ। এডিপির বরাদ্দের অর্ধেকও খরচ করতে পারছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খরচ হচ্ছে মোট বরাদ্দের ৩০ শতাংশের কিছু বেশি। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাজেটের টাকা খরচ করতে পারছে না। অথচ স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি ব্যয়ের চেয়ে তিনগুণেরও বেশি টাকা খরচ হচ্ছে ব্যক্তির পকেট থেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাদের মতো দেশগুলোতে জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের সুপারিশ করে। গত ১২-১৩ বছর ধরে জিডিপির এক শতাংশের কম বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছিল এই খাতে। গত অর্থবছরে সেটি আরও কমেছে। শিক্ষা খাতের অবস্থাও তথৈবচ! এই খাতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভুটানের বিনিয়োগ ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, আফগানিস্তানের ৪ দশমিক ১ এবং ভারত ও পাকিস্তানে বরাদ্দ ২ দশমিক ৯ শতাংশ। শিক্ষা খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এদের মধ্যে সবার নিচে। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আর গেল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ১ দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমে এসেছে। ইউনিসেফের এক প্রবন্ধে সম্প্রতি বলা হয়, সোশ্যাল খাতে আমাদের যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেগুলো গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডের তুলনায় অনেক কম। গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী, জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া উচিত। আমাদের দেশে সামগ্রিক জাতীয় আয়ের (জিডিপি) দুই শতাংশের কম শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত অর্থবছর শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৬ শতাংশ বিনিয়োগ করা হয়েছিল। শুধু বরাদ্দ নয়, শিক্ষার মানও উন্নত করতে হবে। বাংলাদেশের শিক্ষার মান উন্নত বিশ্বের মানের চেয়ে অনেক অনেক নিচে।

দাতা সংস্থা প্রকল্পের দক্ষতা নিয়ে নিশ্চুপ : রাজনৈতিক বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি হলো উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে উঁচু মানের দক্ষ সরকারি প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারে। ধনী দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ ও সংস্কার করার বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সহায়তা সংস্থা এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর প্রচেষ্টাকে একত্র করে কাজ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু দেখা গেছে, বাইরের অর্থায়নের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের সময় বা সমাপ্তির পথে অনেকটাই কম সফল হচ্ছে। প্রকল্পগুলোর কৃতিত্ব প্রায়শই ‘প্রাতিষ্ঠানিক কর্মক্ষমতা’ অর্থাৎ জনসাধারণের সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার উন্নতির পরিবর্তে অতি সামান্য এবং কসমেটিক পরিবর্তন করা হয়। তবে এসব বিষয়ে একটি রোডম্যাপ থাকা উচিত বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এবারও বাজেটে ঘাটতি থাকবে। এই ঘাটতি পূরণের পরিষ্কার ব্যাখ্যা, প্রভাব ও ভবিষ্যতে তা কমিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা অর্থমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে জানালেন না যা আগামী কয়েকদিন দেশব্যাপী আলোচনায় থাকবে।

লেখক: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
govindashil@gmail.com