সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক ছয় বাংলাদেশী নাগরিককে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
গত সোমবার দুপুরে কলারোয়ার ভাদিয়ালী সীমান্তসংলগ্ন ভারতের হাকিমপুর এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।
৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মাদরা কোম্পানির কমান্ডার সুবেদার মো. শাহ আলম জানান, মাদরা সীমান্তের মেইন পিলার ১৩-এর সাব পিলার ৩ এবং রেফারেন্স পিলার ৭ ও ৮ এর মাঝামাঝি ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ গজ ভেতরে, পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট মহকুমার সরুপনগর থানাধীন হাকিমপুর নামক স্থানে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বিজিবি মাদরা কোম্পানির কমান্ডার সুবেদার মো. শাহ আলম এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিএসএফ ১৪৩ ব্যাটালিয়নের হাকিমপুর কোম্পানি কমান্ডার এসি স্বজন দ্বীপ।
বৈঠক শেষে ছয় বাংলাদেশী নাগরিককে বিজিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে বিএসএফ। পরে সন্ধ্যায় বিজিবি তাদের কলারোয়া থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
হস্তান্তরকৃত বাংলাদেশিরা হলেন—নড়াইল জেলার কালিয়া থানার মাধবপাশা গ্রামের মৃত আলতাবের স্ত্রী জুরি বেগম (৭০), একই গ্রামের মৃত ইসহাক শেখের মেয়ে সালমা বেগম (৪১), ফারুক শেখের ছেলে আসিব শেখ (১১) এবং সাকিব শেখ (৪); টাঙ্গাইল জেলার সদর থানার ভাতকড়া গ্রামের আফসার উদ্দিন শেখের মেয়ে মোছা. মরিয়ম খাতুন (৪৩) এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়া থানার মাছুয়াখালী গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪২)।
তারা সবাই কাজের প্রয়োজনে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়। এরপর বিএসএফের আহ্বানে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম জানান, হস্তান্তরপ্রাপ্তদের বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে তাদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, “বুধবার আত্মীয়-স্বজনরা কলারোয়ায় পৌঁছাতে পারেন।”