বাংলাদেশ যখন এগিয়ে, ভারত তখন থাইল্যান্ডে হেরেছে

যখন ঢাকার জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে উৎসবে মেতে ওঠে বাংলাদেশ, তখনই পাথুম থানিতে উল্টো দৃশ্য। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে একই ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় ভারতকে। ফুটবলের এশীয় মহাদেশে একই সন্ধ্যায় দুই প্রতিবেশী দেশের এমন ভিন্ন পরিণতি যেন ফুটিয়ে তুলল দুই দলের বর্তমান বাস্তবতা।

মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের থাম্মাসাত স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছে ভারত। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই স্প্যানিশ কোচ মানোলো মার্কেজের অধীনে যাত্রা শুরু করে ব্লু টাইগাররা। তবে কোচ বদল বদলাতে পারেনি ভাগ্য; হতাশাজনক পারফরম্যান্সেই থামতে হলো তাদের।

খেলার সপ্তম মিনিটেই প্রথম গোল হজম করে ভারত। থাইল্যান্ডের ডেভিস নিচু শটে বল পাঠান ভারতের জালে। গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুর তখন কিছুই করার ছিল না।

এরপর রক্ষণে এলোমেলো অবস্থা, মাঝমাঠে ছন্দহীনতা—সব মিলিয়ে ভারত কোনোভাবেই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে থাইল্যান্ডের পোরামেট আরজিভিরাই গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

ভারতের আক্রমণভাগ চেষ্টা করেছে কয়েকবার। সুনীল ছেত্রীর একটি হেড ও লিস্টন কোলাকোর ফ্রি-কিক গোলকিপার থামসাতচানোনের দৃঢ়তায় থেমে যায়। কিছু সময় বলের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও তা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি ভারত।

ম্যাচ শেষে কোচ মানোলো মার্কেজ বলেন, 'এই হার আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। দলের মধ্যে সম্ভাবনা আছে, এখন প্রয়োজন ধারাবাহিকতা ও মানসিক দৃঢ়তা।'

এই পরাজয়ের ফলে ভারতের এএফসি এশিয়ান কাপ ২০২৭ বাছাইপর্বের প্রস্তুতিতে বড় ধাক্কা লাগল। উল্টো দিকে, একই সন্ধ্যায় ঢাকায় নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। দুই দেশের ফুটবল আজ যেন দুই মেরুতে দাঁড়িয়ে।

ভারতের সামনে এখন সময় খুব বেশি নেই। আগামী ১০ জুন হংকংয়ের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে নামবে তারা।