ঈদুল আজহার পবিত্র মুহূর্তে কুরবানির পশুর বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনায় সকল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, অসংগঠিতভাবে পশু জবাই ও বর্জ্য ফেলার ফলে পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং জনসাধারণের অসুবিধা সৃষ্টি হতে পারে, যা এড়াতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা ও উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক চিহ্নিত স্থানেই কুরবানি সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। খোলা বা অননুমোদিত স্থানে পশু জবাই না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া, কুরবানির সময় ও পরবর্তীতে গ্লাভস, মাস্ক, এপ্রোনসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পশুর রক্ত, গোবর ও অন্যান্য বর্জ্য সামগ্রী খননকৃত গর্তে ফেলে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়ারও নির্দেশনা রয়েছে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বলেছে, কুরবানিকৃত পশুর রক্ত, চামড়া, নাড়িভুঁড়ি, হাড়, শিং বা গোবর কোনোভাবেই খোলা স্থানে ফেলা যাবে না। এসব বর্জ্য শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ডাস্টবিন বা বর্জ্য সংগ্রহস্থলেই নিষ্কাশন করতে হবে। এছাড়া, মাংস বিতরণ বা বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের ব্যাগের পরিবর্তে বায়োডিগ্রেডেবল বা পরিবেশবান্ধব পাত্র ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনকে কুরবানির বর্জ্য দ্রুত ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে অপসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এ বিষয়ে নাগরিকদেরও সচেতন ও সহযোগিতামূলক আচরণ করা সামাজিক দায়িত্ব। পরিবেশ সুরক্ষার মাধ্যমে আমরা যেমন নিজেদের সুস্থ রাখতে পারি, তেমনি আমাদের চারপাশকেও নিরাপদ ও সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারি।
পরিচ্ছন্নতা কেবল শারীরিক সুস্থতার জন্য নয়, এটি আমাদের ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্বও বটে। আসুন, আমরা সঠিকভাবে কুরবানি সম্পাদন করে আমাদের ধর্মীয় কর্তব্য পালন করি এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে আসি।