দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ভোগান্তি ছাড়াই পার হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহন

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোর মানুষজন নাড়ির টানে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে শুরু করেছে, সকাল থেকেই মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া হয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি ও লঞ্চে করে পার হচ্ছে হাজারো মানুষ ও যানবাহন। লক্ষণীয় বিষয় ঘাট ব্যবস্থাপনা আগের থেকে ভালো হবার কারণে ভোগান্তি ছাড়াই ঘাট পার হতে পেরে খুশি উভয় পাশের যানবাহন ও যাত্রীরা। 

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পশুর ট্রাকগুলোকে ঈদের আগে ঘাট এলাকায় আর অপেক্ষা করতে হচ্ছে না, আর এতে সন্তুষ্ট এ রুটে ব্যবহার করা পশুবাহী ট্রাক চালক ও ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে যাত্রীবাহী বাস গুলো সমান ভাবে পার করা হচ্ছে। তবে পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যানগুলোকে ঘাট এলাকায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলছেন কার্ভাড ভ্যানচালকদের অনেকেই।

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া ফেরির টিকিট কাটতে পেরে সন্তুষ্ট ট্রাক চালক ও গরু ব্যবসায়ীরা। তারা ফেরি ঘাটে এসে নিরাপদে আগের মত ভোগান্তি ছাড়াই দ্রুত ফেরিতে উঠতে পেরে খুশি। 

সরজমিন দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা ঘুরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখা যায়, যে সকল কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ঘাটে আসছে তাদেরকে ঘাটের জিরো পয়েন্টে এসে সল্প সময় ফেরির জন্য দাড়িয়ে থাকার পর তারা ফেরি ঘাটের অভিমুখে রওনা হয়ে সরাসরি ফেরিতে উঠছে। অন্যদিকে পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আশা ফেরি গুলোতে যানবাহনের থেকে যাত্রীর চাপ বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। এছাড়াও লঞ্চ ঘাট ও ফেরি ঘাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিতি ছিলো চোখে পরার মত। যাত্রীদের ঈদ যাত্রা নিরাপদ রাখতে তারা কাজ করছে।

অন্যদিকে দৌলতদিয়া ঘাটে বর্তমানে তিনটি ঘাট সচল রয়েছে, তাছাড়া নদীতেও পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, অনেকেই ধারনা করছে ঈদে এর প্রভাব ঘাট এলাকায় পরতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ঢাকা ও এর আশেপাশের মানুষের ও যানবাহনের যে চাপ রয়েছে তা এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে।

কথা হয় কুষ্টিয়া থেকে আসা আকবর আলী নামের এক বেপারির সাথে তিনি দেশ রূপান্তর কে জানান, প্রতি বছরই কোরবানির ঈদের আগে পশুবাহী ট্রাক গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয় এতে আমাদের উপকার হচ্ছে, কয়েক বছর আগেও এমন ব্যবস্থা ছিলোনা। সেতু হবার পর থেকে এই ঘাটে ভোগান্তিও কমে গেছে। আমরা খুব সহজেই ঘাট পার হতে পারছি।  

৭নং ফেরি ঘাট থেকে কথা হয় ঝিনাইদহ থেকে আসা শাহীন শেখ এর সাথে তিনি দেশ রূপান্তর কে জানান, ঘাটে খুব অল্প সময়ে আসতে পেরেছি তেমন কোন অপেক্ষা করতে হয়নি। ফেরি খালি হলেই আমাদের ট্রাক গুলো উঠে যাবে। 

এ সময় কথা হয় যাত্রীবাহী গোল্ডেন লাইন বাসের এক চালকের সাথে তিনি দেশ রূপান্তর কে বলেন, ঘাটের ভোগান্তি নেই, ঘাটে জিরো পয়েন্টে এসে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের কে ফেরি ঘাটে পাঠানো হয়, অল্প সময়ের ভিতরে আমরা ফেরি পার হতে পারছি। 

কথা হয় সোহাগ বাসের এক চালকের সাথে তিনি দেশ রূপান্তর কে জানায়, এখন ঢাকাগামী যাত্রীর ঘাটে তেমন চাপ নেই তবে চাপ আছে পাটুরিয়া ঘাটে।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, ঈদের আগ মুহূর্তে ঘাট এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করে আজ সকাল থেকেই অনেকেই পারাপার হয়েছে। সকাল থেকেই ঘরমুখো মানুষের ভিড় দৌলতদিয়া প্রান্তে। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সামলাতে আমরা যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছে। আশা করি তেমন কোন সমস্যা হবে না। অন্যদিকে ঢাকা সহ অন্যান্য জেলায় কোরবানির পশুবাহী ট্রাক গুলোও তেমন কোন অপেক্ষা ছাড়াই পারাপার করছি।