চট্টগ্রামে ট্রেনের ধাক্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় কালুরঘাট সেতুর পূর্ব প্রান্তে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। প্রথমে এই দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর খবর মিললেও, পরে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সেতুর পূর্ব পাশে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগরের মো. সাজ্জাদুর নূরের কন্যা দুই বছরের আয়েশা, বোয়ালখালীর বাংলা পাড়ার মুহাম্মদ আবুল মনসুরের ছেলে মুহাম্মদ তুষার এবং অপর একজন, যার নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন জানান, “এই ঘটনায় তিনজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে একজন শিশু। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

রেলওয়ে সূত্র বলছে, কক্সবাজার থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ১০টা ১৫ মিনিটে কালুরঘাট সেতুতে উঠে পড়ে। সেসময় সেতুর ওপর কিছু সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল ছিল। এর মধ্যে একটি অটোরিকশা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অন্য যানবাহনগুলোও আটকে পড়ে। ট্রেনটি দ্রুতগতিতে সেতুতে উঠে গেলে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে।

স্টেশন মাস্টার মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, “ট্রেনটির সিগন্যাল মেনে দাঁড়ানোর কথা ছিল পূর্ব প্রান্তে। লাইনম্যানের অনুমতি ছাড়া সেতুতে ওঠা নিয়মবিরুদ্ধ। কিন্তু চালক তা মানেননি। সেতুর ওপর তখন গাড়ি আটকে ছিল, আর বিপরীত দিক থেকেও যানবাহন আসছিল। ফলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।”

দুর্ঘটনার দৃশ্য ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিহত শিশুকে কাঁধে নিয়ে তার বাবা সাজ্জাদুর নূর বিলাপ করছেন, পাশে আহাজারি করছেন মা জুবাইদা ফেরদৌস ইসরা। তাঁরা বোয়ালখালী থেকে ঈদ উদযাপন করতে চট্টগ্রাম শহরে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল তাঁদের একমাত্র সন্তান আয়েশা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেতুর পশ্চিম পাশ থেকে গাড়িগুলো পূর্ব দিকে চলছিল। ট্রেন তখন পূর্ব প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু শেষ ৫-৬টি সিএনজি ও মোটরসাইকেল সেতুর ওপর থাকাকালে হঠাৎ ট্রেন চলা শুরু করলে তারা আর সেতু ছাড়তে পারেনি। সংঘর্ষে একটি সিএনজির ওপর উঠে যায় ট্রেনটি, যাতে ছিলেন শিশুটি ও তার পরিবার।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, গুরুতর আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

১৯৫৮ সালে সাধারণ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া এই ব্রিটিশ আমলের কালুরঘাট সেতু অত্যন্ত সরু। এক সঙ্গে দুই পাশ থেকে গাড়ি চলাচল সম্ভব নয়। তাই এক পাশের গাড়ি আটকে রেখে অপর পাশের যানবাহনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।