কার্লো আনচেলত্তির প্রথম ম্যাচেই হতাশ ব্রাজিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে লাতিন আমেরিকান অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেই মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কোচ হিসেবে আনচেলত্তির অভিষেকটা তাই রঙিন হলো না।
ইকুয়েডরের মাঠে ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল স্বাগতিকরা। তাদের আঁটসাঁট রক্ষণভাগ ভাঙতে পারল না ব্রাজিল। প্রথমার্ধে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সুযোগই তৈরি করতে পারেনি আনচেলত্তির দল। সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, তবে গার্সনের পাসে পাওয়া শটটি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক গঞ্জালো ভাল্লে।
দল গঠনে আনচেলত্তি এনেছেন বড় পরিবর্তন। সদ্য বরখাস্ত হওয়া দোরিভাল জুনিয়রের থেকে ভিন্ন রূপে সাজিয়েছেন দল। ৬৫ বছর বয়সী ইতালিয়ান কোচ ভিনিসিয়ুসকে দিয়েছেন ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি। দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ কাসেমিরো ও রিচার্লিসন। অভিষেক হয়েছে ডিফেন্ডার অ্যালেক্সের। নিষেধাজ্ঞার কারণে অনুপস্থিত রাফিনহার বদলে বাঁ প্রান্তে খেলেছেন তরুণ এস্তেভাও।
তবে এই নতুন রূপে ব্রাজিল কিছুটা রক্ষণাত্মকই ছিল। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে গতি বাড়ায় অতিথিরা। একাধিক সুযোগ তৈরি করে তারা, কিন্তু গোলের দেখা মেলেনি। ভিনিসিয়ুসের ক্রসে রিচার্লিসন সুযোগ নষ্ট করেন, কাসেমিরোর দূরপাল্লার শটও ঠেকিয়ে দেন ভাল্লে।
ইকুয়েডরও সুযোগ পেয়েছিল। জন ইবোয়ার থ্রু বল থেকে নিসলন আঙ্গুলো গোল করতে পারতেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সেই চেষ্টা।
ড্রয়ের ফলে ইকুয়েডর ২৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখল, বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকল তারা। পরের ম্যাচে তারা খেলবে নবম স্থানে থাকা পেরুর বিপক্ষে।
ম্যাচ শেষে কাসেমিরো বলেন, “ইকুয়েডর ভালো দল, তারা সংগঠিতভাবে খেলেছে। আমরা ধীরে ধীরে উন্নতি করব। আজকের ম্যাচে রক্ষণভাগে আমরা বেশ শক্ত ছিলাম। এত বড় একজন কোচের অধীনে খেলতে পেরে দারুণ লাগছে।”
ভিনিসিয়ুস বলেন, “আনচেলত্তি এখনো পুরো কৌশল দেখাননি। সামনে অনেক কিছু দেখানোর বাকি আছে। আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে। বাছাইপর্বের শেষ ভাগে এবং বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে একতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
পরবর্তী ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। যদি সপ্তম স্থানে থাকা দলের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান ছয় বা তার বেশি হয়, তাহলে ওই ম্যাচ জিতলেই বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করবে আনচেলত্তি।