পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন আজ। ঈদের ছুটিতে সাধারণ দিনের তুলনায় রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কম থাকায় চলাচল অনেক সহজ ও দ্রুত হচ্ছে। ফাঁকা রাস্তা কাজে লাগিয়ে নগরবাসী ছুটছেন বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে, যেখানে এখন উৎসবের আমেজ তুঙ্গে।
আজ রবিবার সকাল থেকেই মিরপুর, গুলশান, মতিঝিল ও পুরান ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে গাড়ির সংখ্যা কম রয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের বরাতে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে অনেকেই গ্রামে ফিরে যাওয়ায় শহরের রাস্তায় যানবাহনের চাপ ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
মিরপুর থেকে বাহাদুর শাহ পার্কে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, “সাধারণত এখানে পৌঁছাতে ঘণ্টাখানিক সময় লাগে, আজ মাত্র পনেরো মিনিটেই এসেছি।”
রাস্তায় এই যানজটমুক্ত অবস্থা নগরবাসীকে সুযোগ দিয়েছে বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে যাওয়ার। ঢাকা চিড়িয়াখানার প্রবেশপথে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। শিশুদের উল্লাস আর বাবা-মায়ের ব্যস্ততায় পুরো পরিবেশ প্রাণবন্ত।
ফ্যান্টাসি কিংডমেও একই ধরনের দৃশ্য বিরাজ করছে। রাইডগুলোতে সওয়ার হওয়ার জন্য দর্শনার্থীদের ভিড় এবং টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। পার্কের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, “গতকাল প্রথম দিনে বেশি ভিড় ছিল, আজ তা কিছুটা কমেছে।”
বিনোদন কেন্দ্রের বাইরে শপিং মলগুলোতেও উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়েছে। বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কের নতুন পোশাক, গয়না ও ইলেকট্রনিক্স দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
গুলশানের একটি রেস্তোরাঁর ম্যানেজার জানান, “প্রি-বুকিং না করেও সব টেবিল পূর্ণ রয়েছে। আমরা বিশেষ ঈদ মেনু তৈরি করেছি।”
ঈদুল আজহার ছুটিতে ঢাকার এই রঙিন চিত্র নগরবাসীর আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। যানজটমুক্ত সড়ক তাদের শান্তি দিয়েছে, আর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে রাজধানীবাসীর উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি ছিল কতটা দৃঢ়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই উৎসবের মেজাজ আগামী কয়েক দিন বজায় থাকবে।