করোনার প্রকোপ বাড়ায় ভারত থেকে আগতদের নিয়ে বাড়তি সতর্কতা

ভারতে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় দেশের স্থল ও বন্দরগুলোতে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়েনি দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। মাস্ক পড়ার পরেই পাসপোর্ট যাত্রীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও কাস্টমসে। তবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে এখনো কার্যক্রম শুরু করেনি মেডিক্যাল টিম।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সোমবার সকাল থেকেই হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও কাস্টমসে দু’দেশে যাতায়াতকারী যাত্রীদের মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাস্ক পড়ার পরেই তাদের সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য ইমিগ্রেশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। এই পথ দিয়ে চলাচলরত যাত্রীদের মাস্ক পরিধান করেই চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে কাউকে কাউকে এ বিষয়টি মানতে উদাসীন দেখা গেছে। এদিকে এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে এই পথ দিয়ে চলাচলরত পাসপোর্ট যাত্রীরা।

ভারত থেকে দেশে ফেরা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এটি সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া খুব ভালো উদ্যোগ বলে আমি মনে করি। আমি আমার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ভারতের কলকাতায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলাম। সেখানেও করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাস্ক পড়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে। এরপর আজ চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার সময় ভারতীয় ইমিগ্রেশনে মাস্ক পড়তে বলছে এবং বাংলাদেশের হিলি ইমিগ্রেশনেও মাস্ক পড়ে তবেই ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে। এটি অবশ্যই খুব ভালো উদ্যোগ; এর কারণ হলো বিগত সময়ে আমরা যে করোনার সংক্রমণ বা প্রাদুর্ভাব দেখেছি এখন থেকেই যদি এই রকম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, জনগণ সচেতন হয়; তাহলে তা দেশ ও জাতির কল্যাণে আসবে।

ইমিগ্রেশনে আসা নিরঞ্জন কুমার বলেন, আমার ছেলে ভারতে পড়াশোনা করে সে কারণে আমি আমার ছেলেকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে এসেছি। এখানে এসে দেখছি মাস্ক ছাড়া ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। যার কারণে মাস্ক পড়ে তবেই ভেতরে প্রবেশ করতে পারলাম। যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এটি খুব ভালো একটি উদ্যোগ যেহেতু করোনা বাড়ছে তাই মাস্ক ব্যবহার করলে আমি নিজে যেমন ভালো তেমনি এর সংক্রমণ ছড়াবে না।

পাবনা থেকে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আসা নাহিদ হোসেন বলেন, করোনার সংক্রমণ বাড়ার ফলে সরকার মাস্ক পড়ার উপর জোর দিয়েছে। এটি একটি যেমন বিষয় তেমনি আমি নিজে মাস্ক পড়ছি এই রোগ থেকে নিজেকে নিরাপদ ও মুক্ত থাকার জন্য।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের এএসআই আবু তালেব বলেন, হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় যাত্রীদের এ সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে তাদের মাস্ক পরিধান করাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বলা হচ্ছে। আমাদের এখানে যে মেডিক্যাল টিম বসে ঈদ পরবর্তী সময়ে জনবল সংকটের কারণে আজ থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে আগামীকাল থেকে মেডিক্যাল টিম কার্যক্রম শুরু করলে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি মনিটরিং করা হবে।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইলতুতমিশ আকন্দ বলেন, সবাই ছুটিতে থাকায় আজ থেকে মেডিক্যাল টিম বসানো সম্ভব নয়। তবে আগামীকাল থেকে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে করোনার সংক্রমণ রোধে মেডিক্যাল টিম বসবে। পাসপোর্ট যাত্রীদের হেলথ স্ক্রিনিংসহ তাদের অন্য সকল কার্যক্রম শুরু করবে।