ত্রাণবাহী জাহাজ ‘ম্যাডলিন’ নিজেদের বন্দরে নিয়ে গেছে ইসরায়েল

গাজার ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বহনকারী আন্তর্জাতিক মানবিক জাহাজ ‘ম্যাডলিন’ ইসরায়েলের নৌবাহিনী আটক করে আশদাদ বন্দরে নিয়ে গেছে। ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের (এফএফসি) উদ্যোগে পরিচালিত জাহাজটি স্থানীয় সময় সোমবার রাতে ইসরায়েলি উপকূলে পৌঁছায়। জাহাজটিতে ছিলেন ১২ জন মানবাধিকারকর্মী। খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

আটক মানবাধিকারকর্মীদের ইসরায়েলের রামলে শহরের একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হতে পারে এবং সেখান থেকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’। সংস্থাটি এ মানবাধিকারকর্মীদের আইনি সহায়তা দিচ্ছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ম্যাডলিন’ আশদাদ বন্দরে ভিড়েছে এবং জাহাজে থাকা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ-সংক্রান্ত একটি পোস্টে দুই যাত্রীর ছবি প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সুইডেনের পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের ছবিও।

জাহাজে থাকা ১২ জন মানবাধিকারকর্মী হলেন—সুইডেনের গ্রেটা থুনবার্গ, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ফরাসি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসান, জার্মানির ইয়াসেমিন আচার, ফ্রান্সের ব্যাপতিস্ত আন্দ্রে, ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলা, ফ্রান্সের ওমর ফায়াদ, পাস্কাল মৌরিয়েরাস ও ইয়ানিস মোহামদি, তুরস্কের সুলাইব ওর্দু, স্পেনের সার্জিও তোরিবিও, নেদারল্যান্ডসের মার্কো ফন রেনেস এবং ফ্রান্সের রিভা ভিয়া।

ইসরায়েল গত ২ মার্চ থেকে গাজায় ত্রাণ প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে মানবিক সংকট চরমে পৌঁছায় এবং অনাহারে ভুগে একাধিক শিশু মৃত্যুবরণ করে। এই প্রেক্ষাপটে অবরোধ ভেঙে ত্রাণ পাঠাতে ‘ম্যাডলিন’ জাহাজ ১ জুন ইতালির সিসিলির কাতানিয়া শহর থেকে রওনা দেয়।

ফ্রি ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাহাজটি গাজায় পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যেসব অতি প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বহন করছিল, তার মধ্যে ছিল চিকিৎসা সরঞ্জাম, ময়দা, চাল, শিশুদের দুধ (বেবি ফর্মুলা), ডায়াপার, নারীদের স্যানিটারি পণ্য, পানি বিশুদ্ধকরণ কিট, ক্রাচ ও শিশুদের কৃত্রিম অঙ্গ।

স্থানীয় সময় রোববার মধ্যরাতে, যখন ‘ম্যাডলিন’ গাজা উপকূল থেকে আনুমানিক ১৮৫ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিল, তখনই ইসরায়েলের নৌবাহিনী জাহাজটি থামিয়ে দেয়। এরপর মানবাধিকারকর্মীসহ পুরো জাহাজটি আশদাদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।