জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় একটি বিয়ে বাড়িতে খাবার নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার বিকেল ৫টার দিকে মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের গুদাশিমুলিয়া এলাকায়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—আব্দুল মাজেদ সরদার, রিপন সরদার, রুকন সরদার, বাবু, লাভলু, আব্দুল মালেক, কনের নানা শহিদুল্লাহ ও বাবুর্চি বুরুজ। এছাড়াও নারীসহ উভয় পক্ষের আরও অন্তত ২০ জন সংঘর্ষে আহত হন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের চর শোভাগাছা গ্রামের আমিনুর আকন্দের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক তারেক (২৪) কিছু মাস আগে বিয়ে করেন চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পোশাকশ্রমিক আসাদুল ইসলামের মেয়ে আর্জিনাকে। বিয়ের সময় কনে বরের বাড়িতে ওঠেননি। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে কনেকে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং সে অনুযায়ী কনের বাবার বাড়িতে আয়োজন করা হয় খাবারের। পাড়া-প্রতিবেশীকেও সেই আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
দুপুর থেকেই শুরু হয় অতিথিদের আপ্যায়ন। বিকেল ৫টার দিকে বরপক্ষের লোকজন বিয়ে বাড়িতে এসে খাবার খেতে শুরু করেন। কিন্তু তখন দেখা যায়, তাদের কয়েকজন প্রচুর পরিমাণে খাবার নষ্ট করছেন। এ নিয়ে কনেপক্ষের লোকজন আপত্তি জানালে শুরু হয় তর্কাতর্কি। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কনেপক্ষের কিছু ব্যক্তি বরপক্ষের এক যুবক ও এক কনেকে আটকে রাখেন। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটকে রাখা দুজনকে উদ্ধার করে। এ সময় ভাঙচুর হয় কয়েকটি মোটরসাইকেল। আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন, তবে কেউ গুরুতর আহত হননি বলে জানা গেছে।
চরপাকেরদহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আলমাস হোসেন বলেন, “আমি অন্য একটি দাওয়াতে ছিলাম। খবর পেয়ে বিয়ে বাড়িতে গেলে শুনি, খাবার নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি হয়। এতে কনেপক্ষের অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। আমি গিয়ে ছেলেপক্ষের কাউকেই পাইনি।”
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন বলেন, “মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ছেলে পক্ষের লোকজনদের উদ্ধার করেছে। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”