দায়িত্ব গ্রহণের আট মাসের মাথায় নিজের কার্যক্রমের অগ্রগতি বা হাল খাতার হিসাব তুলে ধরেছেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘আমাদের আমলনামা’ শিরোনামে বিশাল বর্ণনামূলক লেখাটি লিখেছেন। এর শেষ অংশে তিনি বলেছেন, ‘আগামীতে যারা বিডা চালাবেন তাদের শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না।’
প্রায় পাঁচ দিন আগের লেখাটিতে প্রায় ৪০ হাজার জন ইমোজির (প্রতীক) মাধ্যমে সাড়া দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ভালোভাসার প্রতীক ব্যবহার করেছেন ১৮ হাজার, লাইক প্রতীক ব্যবহার করেছেন ১৮ হাজার, যতœ (কেয়ার) প্রতীক ব্যবহার করেছেন ২ হাজার ৯০০ জন এবং হাহা প্রতীক ব্যবহার করেছেন মাত্র ১৪১ জন এবং ওয়াও প্রতীক ব্যবহার করেছেন ৫৯ জন, দুঃখের প্রতীক ব্যবহার করেছেন ৬ এবং একজনকে চৌধুরী আশিকের লেখাতে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এছাড়া লেখাটিতে ২ হাজার ৬০০টি মন্তব্য এসেছে এবং ৪ হাজার ৮০০ বার লেখাটি শেয়ার করা হয়েছে।
তার কার্যক্রমে সমালোচনাকারীদের লেখাটি ধৈর্য ধরে পড়ার আহ্বান ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সমালোচকদের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম অনুসরণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। ভুল তথ্যের শিকার না হয়ে প্রয়োজনে বিডা সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞেস করার অনুরোধ করেছেন। সংশ্লিষ্টরা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
বিডা তিন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে জানিয়ে তিনি লিখেছেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে পলিসি ও এক্সিকিউশন (নীতি ও কার্যক্রম) ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া; যারা দেশে অলরেডি (ইতিমধ্যে) বিনিয়োগ করেছেন, তাদের কেস বাই কেস ইস্যু (প্রতিটি চাহিদা মূল্যায়ন) সমাধানের মাধ্যমে অ্যাম্বাসেডর (দায়িত্বশীলতা) তৈরি করা; দেশের ইমেজ ইমপ্রুভ (ভাবমূর্তি উন্নতি) করার পাশাপাশি একটা সলিড ইনভেস্টমেন্ট পাইপলাইন (প্রকৃত বিনিয়োগ গন্তব্য) গঠন করা।
কার্যক্রমের প্রথম পর্যায় সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, শুরুর দিকে ২০০-এর বেশি দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ও সিইওদের পরামর্শ অনুযায়ী ৩০টি পদক্ষেপ শনাক্ত করা হয়। তার মধ্যে মোট ১৮টি নির্দিষ্ট সময়সীমার তুলনায় এগিয়ে আছে, ৭টিতে অন ট্র্যাক (সঠিক পথে) আছি, ৫টির প্ল্যান (পরিকল্পনা) থেকে পিছিয়ে আছি। এই প্রোগ্রেস (অগ্রগতি) প্রতি দুই মাস পরপর তাদের সঙ্গে ‘স্টেট অব ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট’ নামে ওয়েবিনার হোস্ট করে শেয়ার করি। ডিসেম্বর নাগাদ সবগুলো কমপ্লিট (সম্পূর্ণ) করার টার্গেট (লক্ষ্য)।
দ্বিতীয় কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, দেশের এক্সিস্টিং (বিদ্যমান) বিনিয়োগকারীদের সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করা এবং তাদের হয়ে পলিসি অ্যাডভোকেসি (নীতিগত সমর্থন) করা জরুরি। নতুনরা এসে তাদের কাছেই জানতে চাইবেন এদেশে ব্যবসা করা উচিত কি না।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বেশ কিছু কোম্পানির ইস্যু (বিষয়) সমাধান করা হয়েছে। যেমন: ইয়ংওয়ান গ্রুপ, মেটলাইফ, শেভরন, লাফার্জ, বাংলাদেশ অটোমোবাইলস। তারা পাবলিকলি (প্রকাশ্যে) এগুলো শেয়ার করেছেন। আরও অনেকে বাকি আছেন। তারা ডিসার্ভ (আশা) করেন। কিন্তু লোকস্বল্পতার কারণে সবাইকে সাহায্য করতে পারছি না।
পলিসি অ্যাডভোকেসির ক্ষেত্রেও কাজ হচ্ছে। যেমন: ফুল ও পার্শিয়াল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ লাইসেন্স পলিসি সংস্কার, ম্যান মেড ফাইবার আনুষঙ্গিক ইম্পোর্ট ডিউটি (আরোপিত শুল্ক) হ্রাস, ইনসেনটিভ (প্রণোদনা) এর জন্য নো ডেডাকশন সার্টিফিকেট ইস্যু প্রক্রিয়া বদল, ইত্যাদি। কিছু রিফ্লেকশন এই বাজেটে এসেছে। আরও অনেক কিছু বাকি রয়ে গেছে। লম্বা লিস্ট। সামনে আশা করি আরও দেখতে পাবেন।
তৃতীয় কার্যক্রম সম্পর্কে জানিয়েছেন, আমরা আগে কখনো ইনভেস্টর পাইপলাইন ট্র্যাক করতাম না। ইনভেস্টর আমাদের দেশে এমনিতেই আসবে, এই আরোগ্যান্স (দাম্ভিকতা) এর কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট মেনুর অনেকগুলা অপসন (মাধ্যম) এর মধ্যে একটা। তাছাড়া বিদেশে বসে গুগল সার্চ করলে আমাদের নিয়ে যে পারসেপশন তৈরি হয়, সেটা রিয়েলিটির (বাস্তবতার) চেয়ে অনেক বেশি নেগেটিভ (নেতিবাচক)। সামনের দিনগুলোতে এমন চাতক পাখির মতো যাতে বসে থাকতে না হয়, ইনভেস্টররা যাতে জানেন কেন বাংলাদেশ ২ দশমিক শূন্য আগের চেয়ে আলাদা, দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের যাতে ম্যাচমেকিং (সমন্বয়) হয়, সেজন্য আমরা দুটি সামিটের (সম্মেলন) আয়োজন করেছি; একটি সবার জন্য, আরেকটি চীনকে ফোকাস করে। ৬৭৫ জন বিনিয়োগকারী এসেছেন এই প্রোগ্রামগুলোতে। দ্বিপক্ষীয় মিটিং হয়েছে বাংলাদেশি এবং বিদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ৩০০’র একটু বেশি।
আমরা আগেও বলেছি, বিলিয়ন ডলার ইনভেস্টমেন্ট একদিনে আসে না। সামিটে এসে ইমোশনাল (আবেগতাড়িত) হয়ে কেউ হুট করে ১০০ কোটি টাকার চেক লিখে ফেলে না। যারা এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেন তারা জানেন। তারপরও সৌভাগ্যক্রমে তিনটি একদম নতুন বিনিয়োগ অলরেডি কনফার্ম (ইতিমধ্যে চূড়ান্ত) করেছে। একটি গার্মেন্টস, একটি এয়ারলাইনসের এমেনিটি কিট ও একটি ঘড়ি ম্যানুফ্যাকচারার। সব মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। এসব কারখানা চালু হলে ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। আরও প্রায় ১৫টি প্রজেক্ট (প্রকল্প) আছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ফাইনাল (চূড়ান্ত) হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা একটা সলিড পাইপলাইন তৈরি হলো। আগামীতে যারা বিডা চালাবেন তাদের শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না।
বিনিয়োগ সম্মেলনের বিষয়ে সরকারের এই কর্তাব্যক্তি উল্লেখ করেনÑ ইনভেস্টমেন্ট সামিট নিয়ে একটা হাইপ তৈরি হয়েছিল। সেটা আমাদের টার্গেট ছিল না। আমি আগেও অনেকবার বলেছি, যে আমরা খালি একটা গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড (আন্তর্জাতিক মানের) প্রোগ্রাম ডেলিভার (উপস্থাপন) করতে চেয়েছিলাম। এটার জন্য আলাদা কোনো বাহবা পাওয়ার আশা আমরা একদম করি না। আরও ভালো করার অনেক সুযোগ আছে। কাজগুলো কমিটেড (প্রতিশ্রুতি) সময়ের মধ্যে হচ্ছে কি না, এর জন্য আমাদের অ্যাকাউন্টেবল (জবাবদিহি) করুন।