বাবাই আমাদের
ঈদের আনন্দ!
এই ঈদে আমরা সবাই মিলে গিয়েছিলাম দাদুবাড়ি, পাবনাতে। আমার ছোট বোন ইচ্ছে আর কাজিন আবদুল্লাহ, আলী, সাফিন আর শোয়াইবদের সঙ্গে অনেক মজা করেছি।
সবচেয়ে ভালো লেগেছে, বাবা সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ঈদের আগের দিন বাবা আমাদের নিয়ে গিয়েছিলেন বাজারের সবচেয়ে পুরনো মিষ্টির দোকানে। আমরা সবাই মিলে ইয়া বড় রাজভোগ খেলাম!
ঈদের দিন সকালে নামাজ পড়ে বাবা আমাদের জন্য রঙিন বেলুন কিনে দিলেন।
ঈদের পরদিন আমরা সবাই মিলে নৌকা ভ্রমণে গেলাম হুরাসাগর নদীতে। বাবা মাঝখানে বসে আমাদের সঙ্গে গল্প করছিলেন। ঈদের ছুটি বলে বাবা আমাদের সঙ্গে সবসময় থাকতে পেরেছেন। বাবাই আমাদের ঈদের আনন্দ!
আর কদিন বাদেই অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা, তাই ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার আগেই আমরা অবশ্য আবার ঢাকায় ফিরে এসেছি। কিন্তু বাবার সঙ্গে কাটানো ঈদের ছুটির বিভিন্ন কথা বারবার মনে পড়ছে।
আওসাফ যাইন
দ্বিতীয় শ্রেণি, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল
আমি বাবার বড় মা
বাবা আমাকে ‘মা’ বলে ডাকেন। এটা নিয়ে দাদির সঙ্গে আমার লড়াই চলে। বাবার ভালো মা কে? বাবা কাকে বেশি ভালোবাসে আর বাবাকেই বা কে বেশি ভালোবাসে? বাবাকে জিজ্ঞেস করলে বলে, আমি এসব তর্কের মধ্যে নেই। আমার দুইটা মা। আমার আনন্দ দেখে কে? দাদিকে হারানোর জন্য আমি চাচার সঙ্গে একবার পরামর্শ করলাম। চাচা আমাকে শিখিয়ে দিলেন, আমিই নাকি বাবার বড় মা। কারণ আমি একই সঙ্গে মেয়ে আবার মা। দুভাবেই ভালোবাসি তাই বেশি ভালোবাসি।
এই কথার জবাব দাদি আমাকে দিতে পারেনি। তবে চাচার কাছ থেকে এই বুদ্ধি পেয়েছি জানলে তিনিও চাচার কাছ থেকে বুদ্ধি নিতে পারেন। চাচাকে আমি তাই চোখে চোখে রাখি।
বাবা আর আমার এখন মজার খেলা। উনি বাবা হলে আমি মেয়ে হয়ে যাই, আবার আমি মা হয়ে গেলে উনি ছেলে হয়ে আমার সব কথা মেনে নেন।
সাবিহা দুররানী
শিক্ষার্থী, নিউ মুন চাইল্ড একাডেমি, চুয়াডাঙ্গা
আর বায়না
করব না
ছুটির দিন আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। কারণ ছুটির দিনে বাবাকে পাওয়া যায় কাছে। অন্যদিনগুলোতে বাবার দেখাই পাই না। ঘুমিয়ে পড়লে আসেন আর ঘুম থেকে ওঠার আগেই চলে যান অফিসে। বাবাকে তাই বলেছিলাম, প্রতিদিন ছুটি হলে খুব মজা হতো। তোমার সঙ্গে খেলা করতে পারতাম, ঘুরতে যেতে পারতাম। বাবা হেসে বললেন, বড় একটা ছুটি তো সামনেই আছে। আমার মনে পড়ল, সামনে ঈদের ছুটি পাওয়া যাবে।
ঈদের ছুটিতে সত্যিই বাবাকে সবসময়ের জন্য পেয়েছি। আর আমিও সবসময় বাবার সঙ্গে ছিলাম। ঈদের বাবার অনেক ব্যস্ততা ছিল। গরু কেনা, কোরবানি দেওয়া, মাংস সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া। সবসময় আমি বাবার সঙ্গে ছিলাম। সেদিন দেখেছিলাম বাবা কত পরিশ্রম করে। আমি আর বায়না করে বাবাকে কষ্ট দেব না। আমি বাবাকে খুব ভালোবাসি।
সাইফ আবদুল্লাহ
শিক্ষার্থী, তৃতীয় শ্রেণি
ফুলকুঁড়ি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, যশোর