তীব্র গরমে নাভিশ্বাস, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

কুমিল্লার মুরাদনগরে রোদ আর তীব্র গরমের কারণে হাঁসফাঁস করছে মানুষ, বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে জনজীবন। অসহনীয় গরমে সবচেয়ে কষ্টে আছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। গরমের তীব্রতা এতটাই বেশি যে বাইরে কাজে বের হয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। জীবিকার তাগিদে উপায়ন্তু না দেখে তীব্র রোদেই কাজে বের হতে হয় খেটে খাওয়া মানুষদের। দিন মজুর থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে অন্য সবার চেয়ে বেশি।

পঞ্চাশোর্ধ রিকশাচালক রশিদ মিয়া গরমে ক্লান্ত হয়ে গেছেন। যাত্রী নামিয়ে রাস্তার পাশে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে শরবত খাচ্ছেন। তিনি বলেন, গরমের মধ্যে একটা ভাড়া মারার পর পানি খেতে হয়, বিশ্রাম নিতে হয়। শরীরে জোর কমে আসে। বেশি গরম পড়ায় দীর্ঘক্ষণ কাজ করা সম্ভব হয় না। ক্লান্ত হয়ে পড়ি। আমরা গরিব মানুষ, পেট চালানোর জন্য গরম হলেও বের হতে হয়। 

ভ্যানচালক মালেক মিয়া বলেন, গরমের কারণে দিনে বেশি ভাড়া টানতে পারি না। শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। ভাড়াও পাইতেছি কম।

নির্মাণ শ্রমিক আলামিন জানান, গরমের মধ্যে কাজ করতে কষ্ট হয়। কিন্তু কাজ না করলে তো কেউ টাকা দেবে না। কাজ না করলে পরিবারসহ না খেয়ে থাকতে হবে। তাই গরমের মধ্যেও প্রতিদিন কাজে ছুটতে হচ্ছে।

তবে গরম বাড়ায় বিক্রি বেড়েছে শরবত বিক্রেতাদের। উপজেলা সদরের আল্লাহু চত্ত্বরের সামনে শরবত বিক্রি করছিলেন কবির হোসেন। তিনি জানান, গরমে তার বিক্রির পরিমাণ অনেক বেড়েছে। শ্রমজীবী মানুষ ও পথচারীরা শরবত খাওয়ার জন্য তার দোকানে ভিড় করছেন। আগের চেয়ে এখন শরবতের ব্যবসা ভালোই হচ্ছে।

তীব্র গরমের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। 

চিকিৎসকরা বলছেন, রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে শ্রমজীবী ও দিনমজুররা রোদের মধ্যে কাজ করায় বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

চিকিৎসকরা জানান, শ্রমজীবীরা প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে বাইরে কাজ করেন বলে তাদের ঝুঁকি বেশি। গরমে একটানা কাজ করতে গিয়ে প্রচণ্ড ঘাম হয়। এ সময়ে দেহে লালচে ফোসকা পড়া, বমি ভাব, অবসাদ, মাথা ঘোরা, মাংসপেশির খিঁচুনি (হিটক্র্যাম্পস) ও হিটস্ট্রোক হতে পারে। সময় মতো চিকিৎসা না নিলে হিটস্ট্রোকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। পানিশূন্যতা থেকে কিডনির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে বলেন, কাজ করার সময় শরীর যেন পানিশূন্য হয়ে না পড়ে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। প্রচুর পানি পান করতে হবে। তবে ঠান্ডা পানি করে দ্রুত পান করা যাবে না। শ্রমজীবী মানুষদের মধ্যে রাস্তাঘাটের শরবত পান করতে দেখা যায়। এ সময়ে দূষিত পানি ও খাবার থেকে কলেরা, ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই বিশুদ্ধ পানি ও খাবার খেতে হবে। কাজের সময় সাদা ও হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের বাইরে এ সময়ে শিশু ও বয়স্কদের প্রতিও যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।