২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ঘুষের টাকা না পেয়ে রোগী ও তার স্বজনদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় নূর হোসেনের বিরুদ্ধে।
মারধরের শিকার রোগী মো. মোস্তফা (৪০) জানায়, শুক্রবার (১৩ জুন) রাত ৯ টায় নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পাংখার বাজার এলাকা থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ৮নং মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হলে তাকে ফ্লোরে থাকতে দেওয়া হয়। রোগী ও তার বাবা ফ্লোরে শ্বাসকেষ্টর সমস্যা হতে পারে ভেবে দায়িত্বরত ওর্য়াড বয় নূর হোসেন এর কাছে একটি খালি বেডের দাবি জানায়। এসময় ওয়ার্ড বয় নূর হোসেন রোগী ও তার স্বজনদের কাছে ঘুষ দাবি করে বলে, ৩০০ টাকা দিলে বেডের ব্যবস্থা করে দেব। এতে রোগী ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
রাত ১১টার সময় রোগী সাথে থাকা বয়োবৃদ্ধ বাবা আব্দুর রশিদ (৭০) পার্শ্ববর্তী একটি সিটে বসে বিশ্রাম নিতে দেখলে ওয়ার্ড বয় নূর হোসেন গালিগালাজ করে তেড়ে এসে মারধর করে বেড থেকে ওঠে যেতে বলে। বাবাকে অপদস্ত হতে দেখে রোগী মো. মোস্তফা প্রতিবাদ জানালে ওয়ার্ড বয় নূর হোসেন রোগী গলা চিপে ধরে ধাক্কা দেয় এবং রোগীর গালে চড় বসিয়ে দেয়।
রোগীর স্ত্রী ইয়াসমিন জানায়, এই বিষয় নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে ওয়ার্ড বয় নূর হোসেন তাদের চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডবয় নূর হোসেনের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা চেষ্ট করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
রোগী ও তার স্বজনদের মারধরের বিষয়ে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আব্দুল মুক্তাদির হোসাইন তুহিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে মেডিসিন ৮ নং ওয়ার্ডে নুর হোসেন নামে এক ওয়ার্ড বয় ডিউটি করেছিল। রোগী ও তার স্বজনদের মারধরের বিষয়টি শোনার পর থেকে আমরা মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তার নম্বরটি বন্ধ থাকায় এখন পর্যন্ত যোগাযোগ করতে পারিনি। আজ রাতেও তার ডিউটি আছে। তিনি ডিউটিতে আসলে এ বিষয়ে তার সাথে কথা বলা হবে এবং রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালে কর্মরত একাধিক ওয়ার্ড বয় জানায়, নূর হোসেনের বাড়ি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পার্শ্ববর্তী এলাকায় হওয়ায় তিনি কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রায়ই রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ করে। তাকে টাকা না দিলে মেডিসিন ওয়ার্ডে কোনো রোগী বেড পায় না।
মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, রোগী এবং তার স্বজনরা অভিযোগ আপনার কাছে করেছে, আমার কাছে তো করেনি। আমরা এ ধরণের কোনো বিষয় জানি না, কেউ আমাদের জানায়নি। তখন ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার হাসপাতালে ছিল। তার কাছে অভিযোগ করেছে কিনা জিজ্ঞেস করেন। তিনি আমাদের বিষয়টি জানাননি। জানলে ব্যবস্থা নিতাম।