প্রতিনিধি সম্মেলনের প্রস্তুতি আন্দোলনকারীদের

‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবে ঈদের ছুটির পর আজ রবিবার প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ের বাদামতলায় সমাবেশ করবে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরাম। ছুটির আগে সর্বশেষ কর্মদিবসেই আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছিলেন, দাবি না মানা হলে ঈদুল আজহার পর কঠোর আন্দোলনে যাবেন তারা। এবার সারা দেশে সরকারি কর্মচারীদের সব সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রতিনিধি সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। আজ বিকেলে সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রতিনিধি সম্মেলনের সময় নির্ধারণ করা হবে।

গতকাল শনিবার সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান মো. বাদিউল কবীর দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানান। তিনি বলেন, আন্দোলন আর সচিবালয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ঈদের ছুটির আগে কর্মবিরতি, উপদেষ্টাদের স্মারকলিপি, বিক্ষোভ-সমাবেশের মতো কর্মসূচি পালন করেন তারা।

চার ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধের জন্য বিভাগীয় মামলা ছাড়াই শুধু কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়ে চাকরিচ্যুত করা যাবে এমন বিধান রেখে ২৫ মে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে। ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অধ্যাদেশটির খসড়া অনুমোদনের পর ২৪ মে থেকেই আইনটি প্রত্যাহারের দাবিতে সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব সংগঠন আন্দোলন করে আসছে।

‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। ঈদের আগের বুধবার এ কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অধ্যাদেশটি বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ের কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে এ কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ।

এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব। এ কমিটি আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে শিগগিরই সুচিন্তিত সুপারিশ প্রণয়ন করবে।