জয়ের আগেও বাভুমাদের 'চোকার্স' বলে স্লেজিং করে অজিরা

লর্ডসের মাঠে তখন টানটান উত্তেজনা। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের শেষ দিনে জয়ের জন্য লড়ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ঠিক সেই সময়েই প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার এক খেলোয়াড়ের কাছ থেকে উড়ে এলো সেই চিরচেনা, যন্ত্রণাদায়ক খোঁচাটা— ‘চোকার্স’!

ম্যাচ শেষে বিজয়ী অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা যখন প্রেসের সামনে এলেন, তখন তার চোখেমুখে শুধু শিরোপা জয়ের আনন্দই ছিল না, ছিল বহু বছরের অপবাদ ঘুচিয়ে দেওয়ার তৃপ্তি। আর সেই তৃপ্তিকে আরও মধুর করে তুলেছে অজিদের কাছ থেকে পাওয়া সেই স্লেজিং, যা প্রোটিয়াদের ভেতরের আগুনটাকে হয়তো আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। বাভুমা নিজেই ফাঁস করেন সেই ঘটনা। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ টেস্ট অধিনায়ক বলেন, “আমাদের ‘চোকার্স’ বলার বিষয়টি আজ সকালেই ঘটেছে। তাদের একজন খেলোয়াড় বলছিল যে আমরা এখনো অলআউট হয়ে যেতে পারি... আমি স্পষ্ট শুনেছি।”

ক্রিকেটের ইতিহাসে দক্ষিণ আফ্রিকার নামের পাশে ‘চোকার্স’ তকমাটি জুড়ে আছে বহু দশক ধরে। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই সেই বিখ্যাত টাই থেকে শুরু করে অসংখ্যবার আইসিসি টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে খেই হারিয়েছে তারা। অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা ঠিক সেই পুরনো ক্ষততেই আঘাত করতে চেয়েছিলেন। যখন প্রোটিয়ারা ঐতিহাসিক জয়ের দোরগোড়ায়, তখন তাদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দেওয়াই ছিল এই স্লেজিংয়ের মূল উদ্দেশ্য।

কিন্তু এবার ফল হলো উল্টো। অজিদের ছুড়ে দেওয়া সেই ‘চোকার্স’ শব্দটি যেন অভিশাপের বদলে আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিল। এইডেন মার্করামের অনবদ্য সেঞ্চুরি এবং চোট নিয়েও অধিনায়ক বাভুমার লড়াকু ইনিংসে ভর করে প্রোটিয়ারা দাপটের সাথেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।

আরেকটি সাক্ষাৎকারে বাভুমা এই বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করে বলেন, “আমরা যখন ব্যাটিং করছিলাম, তখন অজিদের সেই কুখ্যাত ‘চোক’ শব্দটি ব্যবহার করতে শুনেছি। বহু বছর পর আমরা একটি ফাইনাল জিতলাম, আমরা ইতিহাসে নাম লেখালাম, এমন কিছু করলাম যা আগে কখনো হয়নি।”

তার এই কথায় স্পষ্ট যে, অস্ট্রেলিয়ার এই মনস্তাত্ত্বিক খেলাকে তারা গায়ে মাখেননি, বরং এটিকে জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হিসেবে নিয়েছেন। প্রতিপক্ষের ছুড়ে দেওয়া অপমানকে শক্তিতে পরিণত করে শিরোপা জেতাটা এই প্রোটিয়া দলের মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ দেয়।

শেষ পর্যন্ত, অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়ের সেই স্লেজিং ব্যর্থ হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা শুধু বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপই জেতেনি, তারা কয়েক দশকের পুরনো এক মনস্তাত্ত্বিক বাধাও ভেঙে দিয়েছে। আর এই জয়ের পর ‘চোকার্স’ শব্দটি হয়তো এখন থেকে তাদের যন্ত্রণা দেওয়ার বদলে মনে করিয়ে দেবে লর্ডসের সেই ঐতিহাসিক সকালের কথা, যেদিন তারা অপবাদকে জয় করে বিশ্বসেরা হয়েছিল।