৪ কিলোমিটার যেতেই থেমে গেল মধুমতি এক্সপ্রেস

রাজশাহী থেকে ঢাকার পথে যাত্রা শুরু করেই যান্ত্রিক সমস্যায় পড়েছে মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন। স্টেশন ছাড়ার মাত্র চার কিলোমিটার পর রাজশাহী নগরীর বুধপাড়া এলাকায় থেমে যায় ট্রেনটি। আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ঘটে এই ঘটনা। প্রায় ১৫ মিনিট পর ফের গতি পায় ট্রেনটি, তবে এরপরও একাধিকবার থেমে পুনরায় চলতে থাকে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মধুমতি এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাজশাহী থেকে ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করে। আজ সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই, স্টেশন থেকে চার কিলোমিটার পেরিয়ে ট্রেনটি থেমে পড়ে। চালক সেখান থেকে আবার চালু করতে চেষ্টা করলে সামান্য দূর এগিয়ে ফের থেমে যায় ট্রেনটি। এরপরে আরেকবার চালু হলে কিছুদূর গিয়েও আবার থামে।

এই বিলম্বের প্রভাবে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটিও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১৮ মিনিট পরে ছাড়ে।

পরবর্তীকালে মধুমতি এক্সপ্রেস হরিয়ান স্টেশনে পৌঁছালে সেখানে আবার থেমে যায়। সেখান থেকেও একইভাবে একাধিকবার চলার চেষ্টা করেও থামতে থাকে ট্রেনটি। শেষ পর্যন্ত আবার হরিয়ান স্টেশনে ফিরে আসে। এ সময় বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনটি অতিক্রম করে যাওয়ার পর, মধুমতি এক্সপ্রেস পুনরায় যাত্রা শুরু করে। ফলে হরিয়ান এলাকায় প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ট্রেনটিকে।

রেলওয়ের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হরিয়ান স্টেশনে বারবার থেমে যাওয়া এবং ফিরিয়ে আনা নিয়ে যাত্রাপথে বেশ বিঘ্ন ঘটে। বনলতা এক্সপ্রেস যাওয়ার পর মধুমতি এক্সপ্রেস আবার ঢাকার পথে রওনা দেয়।

ট্রেনের এক যাত্রী সুমন আহমেদ জানান, “রাজশাহী স্টেশন থেকে ছাড়ার পরে এখানে প্রায় ১৫ মিনিট ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। চালক একবার চেষ্টা করলেন, কিন্তু একটু গিয়ে আবার থেমে গেছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা কালু বলেন, “অনেকক্ষণ মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন এখানে থেমে ছিল। একবার ট্রেন ছেড়ে একটু গিয়ে আবার থেমে যায়। এরপর আবার চেষ্টা করে ট্রেনটি ছেড়ে চলে যায়।”

এই প্রসঙ্গে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বলেন, “মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের চাকা স্লিপ করছিল। বৃষ্টির কারণে রেলপথ ভিজে থাকায় এই সমস্যা দেখা দেয়। ফলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে ট্রেনটি ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছিল।”

তিনি আরও জানান, “এটাকে দেরি বলা ঠিক নয়, ট্রেন ধীরে চলছিল। হরিয়ান স্টেশনে রেলওয়ের কর্মীরা ইঞ্জিনের চাকার নিচে বালু দেবেন, এরপর মেরামতের কাজ করবেন। তবে এর মধ্যে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১৮ মিনিট দেরিতে ছাড়ে।”

এই ঘটনা যাত্রীদের মাঝে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি করলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে আশ্বস্ত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।