বাংলাদেশ জাতীয় কর্র্তৃপক্ষের রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনের (বিএনএসিডব্লিউসি) ২৪তম সাধারণ সভা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে এ সভা হয়। কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা এবং বাহিনীগুলো থেকে বিএনএসিডব্লিউসির ৪৩ জন উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এ সভায় অংশ নেন। সভায় বাংলাদেশে রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন ও রাসায়নিক অস্ত্র (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০০৬-এর বিধিবিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২৩তম সাধারণ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। দেশের সার্বিক রাসায়নিক নিরাপত্তাব্যবস্থা সুসংহত করা ও রাসায়নিক দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কেও আলোচনা হয়।
দেশে তফসিলভুক্ত রাসায়নিক দ্রব্য-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম ও তফসিলবহির্ভূত স্বতন্ত্র জৈব রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদন যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিএনএসিডব্লিউসির সঙ্গে অনলাইনে নিবন্ধনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া তফসিলভুক্ত রাসায়নিক দ্রব্য আমদানির ক্ষেত্রে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডোর (এনএসডব্লিউ) মাধ্যমে জাতীয় কর্র্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র গ্রহণের বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘ মেয়াদে মজুদ করা রাসায়নিক দ্রব্য ধ্বংস করাসহ অন্যান্য বন্দরে রাসায়নিক দ্রব্যের নিরাপত্তাব্যবস্থা সুসংহত করার ব্যাপারে সভায় আলোচনা করা হয়।
রাসায়নিক দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় হতাহতদের চিকিৎসার জন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলো প্রস্তুত করা এবং চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য আগামী অক্টোবর মাসে ঢাকায় ‘অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রোহিবিশন অব কেমিক্যাল উইপনসের (ওপিসিডব্লিউ) আয়োজনে একটি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ হবে বলে সভায় সবাইকে অবহিত করা হয়। বাংলাদেশে কেমিক্যাল ওয়ারফেয়ার এজেন্ট অথবা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ-সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে গঠিত কেমিক্যাল ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের (সিডিআরটি) সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার বিষয়ে সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) একটি ল্যাবকে ওপিসিডব্লিউর ডেজিগনেটেড ল্যাবরেটরি হিসেবে উন্নয়নের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সভায় বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।