ভাস্কর্য সংস্কার ও প্রশাসনের অনিয়ম তদন্তের দাবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের

ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অঞ্জলি লহ মোর’ ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ বুধবার শিক্ষার্থীরা ভাস্কর্যটির সামনে মানববন্ধন করে। তারা তাদের তিন দফা দাবি তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, সরকারি সম্পদের অপচয় বন্ধ করতে হবে এবং যারা এ অপচয় ঘটিয়েছে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তারা চায় ভাস্কর্যটি মূল নকশা অনুযায়ী সংস্কার করা হোক এবং ভাস্কর্য নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সম্ভাব্য অনিয়ম তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা হোক।

ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী ত্বকি হাসান শুভ বলেন, ‘ভাস্কর্যটি ভাঙার মাধ্যমে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করেছে। এটি ভাঙা মানে আমাদের শিল্প-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে আঘাত দেওয়া। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। যদি ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণ না করা হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিমনা শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। অঞ্জলি লহ মোর নজরুলের সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে জড়িত। ভাঙা মানে নজরুলকে অবমাননা করা, যারা এতে জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

আইন ও বিচার বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী জেনাস ভৌমিক বলেন, ‘এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ যা জনগণের টাকায় নির্মিত, তা ভাঙার নির্দেশ যাদের দেওয়া হয়েছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং জরিমানা আদায় করতে হবে। ভাস্কর্যটি তার পূর্বের নকশা অনুযায়ী সংস্কার করা প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পরবর্তী আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাস্কর্য ভাঙার কোনো দাবি ছিলো না।’

আরেক শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান মন্তব্য করেন, ‘কিছু মানুষ ভাস্কর্যটিকে রাজনৈতিক অর্থ দিতে চাচ্ছে। কিন্তু যদি এর বিমূর্ত অর্থ বুঝতে পারা যায়, তাহলে দেখা যাবে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও সমৃদ্ধির জায়গায় অঞ্জলি দেওয়া হয়েছে। কবির গান থেকে নামকৃত এই ভাস্কর্যকে এমন অবস্থা দেখে আমরা ক্ষুব্ধ।’