রাজধানীতে আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়েছে হত্যা মামলার আসামি। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানা নেওয়ার সময় পুলিশের হেফাজত থেকে শরিফুল ইসলাম নামের এক আসামি পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজতখানার এসআই মো. রিপন মোল্লা।
ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলামের আদালতে আসামিকে কারাগার থেকে আনা হয় হাজিরা দেওয়া জন্য। মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জাকির হোসেন টিপু। তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের আদালতের দ্বিতীয় তলা থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার পথে নিচ তলা থেকে পালিয়ে যান শরিফুল ইসলাম। আসামিকে আদালত থেকে হাজতখানায় নিয়ে আসার পথে কনস্টেবল শহিদুল্লাহকে আঘাত করে সে পালিয়ে যায়। শরিফুল দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার হরিপুর গ্রামের মৃত শফিক আহম্মেদ খানের ছেলে।
এদিকে আদালত এলাকা থেকে হত্যা মামলার আসামি পালিয়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিপূবে আদালত পাড়া থেকে পুলিশ হেফাজত থেকে অনেক আসামি পালিয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার কারণে অনেক পুলিশ সদস্যকে চাকরিচুত্য করা হয়েছে। ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতের ফটকের সামনে পুলিশের ওপর হামলা করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাদের সহযোগীরা।
শরিফুলের মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি দুপুরে খিলগাঁও থানাধীন সিপাহীবাগে এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়েছিল স্কুল ছাত্র জিসান হোসেন। এরপর আর বাসায় ফেরেনি, পরিবার খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পায়নি। পরদিন জিসানের মোবাইল থেকে তার বাবা মোফাজ্জল হোসেনের মোবাইলে বার্তা আসে, তার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। ১৫ লাখ টাকা জিসানের মুক্তির জন্য দাবি করে আসামিরা। জিসানের বাবা মোফাজ্জল হোসেন খিলগাঁও থানায় এ মামলাটি করে। পরে ২৩ জানুয়ারি জিসানের লাশের খোঁজ মেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।
বাড্ডা থানা পুলিশ আফতাব নগরের আলমগীরের মাছের খামারের মধ্যে জিসানের দেহ মাফলার দিয়ে ইট কোমরের বাঁধা অবস্থায় পায়। পরে র্যাব জিসান হত্যায় জড়িত সন্দেহে শাহিন মিয়া ও শরিফুল ইসলামকে আটক করে। র্যাবের কাছে তারা স্বীকার করেন, ১৯ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য জিসানকে ফুঁসলিয়ে সিপাহীবাগ নতুন রাস্তা রিকশা গ্যারেজ থেকে অপহরণ করে আফতাবনগরে আলমগীরের মাছের খামারে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। লাশ গুম করতে জিসানের কোমরের সঙ্গে মাফলার দিয়ে ইট বেঁধে পানিতে ফেলে দেন। ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি খিলগাঁও থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ রাহাৎ খান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। এ পর্যন্ত ৯ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে আদালত।