গল টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের জন্য একমাত্র বড় স্বস্তির নাম ছিল পাথুম নিশাঙ্কার উইকেট। দিনের শেষদিকে নতুন বলে স্টাম্প উপড়ে ফেলেন হাসান মাহমুদ। সেটিই হয়তো ছিল দিন শেষে দলের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সবচেয়ে বড় অবলম্বন।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইটও সেটিকেই তুলে ধরলেন ইতিবাচক দিক হিসেবে।
টেইট বলেন, ‘নতুন বলে হাসান মাহমুদ উইকেট তুলে নিয়েছে—এটাই তার কাজ। স্পিনাররা তার আগেই অনেক ওভার করেছে। হাসান জোরে বল করতে পারে, সেই সামর্থ্য কাজে লাগিয়েছে। মিডল স্ট্যাম্পে আঘাত করেছে, দারুণ বল ছিল। শেষদিকে একটু বাতাস ছিল, সেটাও কাজে লেগেছে। এটা দলের জন্য ভালো একটা ইঙ্গিত।’
তবে শুরুটা যে আরও ভালো হতে পারত, সেটি অকপটে স্বীকার করেছেন এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ। তার মতে, প্রথম ইনিংসে নতুন বল কাজে লাগাতে না পারাই শ্রীলঙ্কাকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলন, ‘আমার মনে হয়, নতুন বলে শুরুটা আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। সেখানে সুযোগ মিস হয়েছে। তবে ছেলেরা ভালো পরিশ্রম করেছে, আপনি যা প্রত্যাশা করেন তার চেয়ে কম কিছু নয়। এই উইকেটটা বেশ ব্যাটিংবান্ধব, এমনকি তৃতীয় দিনেও। পেসারদের জন্য কন্ডিশন কঠিন ছিল, তবু ওরা চেষ্টা করে গেছে। আপনি ভিন্ন দিনে, ভিন্ন উইকেটে ভিন্ন কিছু আশা করতে পারেন। কিন্তু এই ম্যাচে আমাদের বেশি পরিশ্রম করতে হবে—সেটা পরিষ্কার।’
গলের উইকেট বরাবরই স্পিন সহায়ক হলেও এবারের টেস্টে যেন ছবিটা একটু ভিন্ন। টেইট জানালেন, টার্নের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা খুব একটা দেখা যায়নি, বরং ব্যাটারদের জন্য ছিল স্বর্গীয় কন্ডিশন।
টেইট বলেন, ‘এখনো উইকেটটা তেমন বদলায়নি। যেরকম ছিল, এখনো তেমনই আছে। মানুষ ভাবছিল আজ বেশি টার্ন হবে, কিন্তু তা হয়নি। কিছুটা টার্ন হয়েছে বটে, কিন্তু সেটি ভয়ংকর কিছু নয়। এটিই বাস্তবতা। আমরা নিজেরাও দুই দিন ব্যাট করেছি, এবং ভালোভাবে। কাজেই এটা যে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’
শ্রীলঙ্কার প্রশংসাও করতে ভুলেননি শন টেইট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে থাকা দল হিসেবে প্রতিপক্ষকে দেখছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হিসেবে। তবে এ কথাও বললেন, সুযোগগুলো কাজে লাগানো গেলে গল্পটা ভিন্ন হতে পারত।
‘শ্রীলঙ্কা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা দল। তাদের দারুণ কিছু ব্যাটার আছে। আমি বলতে চাই, কিছু উইকেট আমরা নিতে পারতাম। তবে আমি এখনই নেতিবাচক হতে চাই না। খেলার এখনো দুই দিন বাকি আছে। আমাদের সামনে সুযোগ আছে, তবে সে জন্য প্রয়োজন আরও ধৈর্য আর পরিশ্রম।’
সরাসরি দায় চাপাননি বোলারদের ওপর। বরং বললেন, খেলার বাস্তবতা বুঝে সামনে এগোনোই এখন মূল লক্ষ্য। নতুন বলে শেষভাগে পাওয়া সফলতা থেকে যে আত্মবিশ্বাস পাওয়া গেছে, সেটি কাজে লাগিয়ে চতুর্থ দিন কতটা লড়াই করা যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।