বাংলাদেশকে ১৩০ কোটি ডলার ঋণ দেবে এডিবিঃ নতুন চুক্তি সই

ব্যাংকখাত সংস্কার, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও সড়ক উন্নয়নসহ মোট চারটি প্রকল্পে বাংলাদেশকে ১.৩ বিলিয়ন বা ১৩০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক- এডিবি। শুক্রবার  ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ- ইআরডি এর সম্মেলন কক্ষে ইআরডি ও এডিবির মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে এসব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী ও এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিওং। এসব চুক্তির আওতায় ব্যাংকখাত সংস্কার, ঢাকা উত্তর-পশ্চিম আন্তর্জাতিক করিডোর উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় মোট ১৩০ কোটি ৪০ লাখ ডলার পাবে বাংলাদেশ।

দেশে ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করতে এই ঋণের বড় একটা অংশ ব্যায় করা হবে। ‘ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও সংস্কার কর্মসূচি, উপ-প্রোগ্রাম ১’-এর আওতায় সুশাসন বৃদ্ধি, বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো আরও কার্যকর করা এবং অকার্যকর ঋণ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানায় ইআরডি কর্তৃপক্ষ।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিওং বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন ব্যাংকিং খাতে বড় পরিসরে সংস্কার বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই কর্মসূচি বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়াবে, ব্যাংকগুলোর সুশাসন জোরদার করবে এবং আর্থিক খাতকে প্রবৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত করবে।’

এছাড়া ঢাকা উত্তর-পশ্চিম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোর উন্নয়নে ২০৪ মিলিয়ন ডলারের একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সরকার। এই সহায়তা দ্বিতীয় দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এসএএসইসি) ঢাকা উত্তর-পশ্চিম করিডোর সড়ক প্রকল্পের আওতায় বহু-অঞ্চলীয় এডিবি ঋণের চতুর্থ কিস্তি হিসেবে এই ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়া হচ্ছে।

এ প্রকল্পের আওতায় এলেঙ্গা থেকে হাটিকুমরুল হয়ে রংপুর পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে যা বাংলাদেশের আধুনিক ও দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থার গড়তে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করে ইআরডি কর্মকর্তারা। পাশাপাশি এই অর্থ দিয়ে সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে নির্মিত হবে ফুটওভারব্রিজ, ফুটপাত এবং ধীরগতির যানবাহনের জন্য দুটি নির্দিষ্ট লেন।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং বলেন, ‘এই প্রকল্প বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং উপ-আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এটি করিডোর বাণিজ্য ত্বরান্বিত করবে এবং ভুটান, নেপাল ও ভারতের সঙ্গে উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য সহজ করবে।’