গল টেস্টে চতুর্থ দিন শেষে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে লড়াইয়ের রূপরেখা—জিততে হলে শেষ দিনে শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করতেই হবে বাংলাদেশকে। আর সেই পথচলার ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম।
প্রথম ইনিংসে ১০ রানের লিডের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৭ ওভারে ১৭৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। এখন দুই ইনিংস মিলিয়ে লঙ্কানদের চেয়ে ১৮৭ রানে এগিয়ে সফরকারীরা। ক্রিজে অপরাজিত আছেন শান্ত ৫৬ ও মুশফিক ২২ রানে।
প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ১৪৮ রান করা শান্ত দ্বিতীয় ইনিংসেও প্রমাণ করেছেন নিজের ধারাবাহিকতা। থারিন্দু রত্নায়েকের বলে চার মেরে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নিয়েছেন এই বাঁহাতি। তার সঙ্গে জুটি বেঁধে ধীরে ধীরে স্কোরবোর্ডে পুঁজি জমিয়ে তুলছেন মুশফিক। এ দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৪৯ রানের জুটি এখন বাংলাদেশের বড় আশা।
এর আগে দিনের শুরুতেই লিড বাড়ানোর লড়াইয়ে নামে বাংলাদেশ। ওপেনার এনামুল হক আবারও হতাশ করেন। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে ফেরার পর এবার ফিরেছেন মাত্র ৪ রানে। তবে সাদমান ইসলামের ব্যাটে ভর করে ধীরে ধীরে চাকা ঘোরাতে থাকে রানরেটের।
মুমিনুল হকের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৩৬ রানের জুটি গড়ার পথে সাদমান তুলে নেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি। ১২৬ বলে ৭৬ রানের ইনিংসটি ছিল সময়োপযোগী ও ধীরস্থির। তবে মিলান রত্নায়েকের বলে এলবিডব্লু হয়ে তার বিদায়ের পর কিছুটা চাপে পড়ে দল।
সেখান থেকে দলকে সামাল দেন নাজমুল ও মুশফিক। শ্রীলঙ্কার স্পিন-নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ সামলে তারা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশকে সম্ভাব্য জয়ের পথে।
দিন শেষে গল টেস্টের সমীকরণ এখন বাংলাদেশের পক্ষে। শেষ দিনে আগে ব্যাট করে আরও কিছু রান তুলে লঙ্কানদের সামনে ২৫০ বা তার চেয়ে বেশি রানের লক্ষ্য দাঁড় করাতে পারলে ম্যাচে দারুণ রোমাঞ্চ তৈরি হবে।
তবে লঙ্কানদের উইকেটে ফেলা সহজ হবে না। এই পিচে টানা পঞ্চম দিনে ব্যাট করা চ্যালেঞ্জিং হলেও এখনো বাউন্স বা টার্ন তেমন দেখা যাচ্ছে না। ফলে স্পিনারদের কাঁধেই থাকবে মূল দায়িত্ব।
বাংলাদেশের বোলারদের চোখ থাকবে দ্বিতীয় ইনিংসেও পাঁচ উইকেট নেওয়া নাঈম হাসানের দিকে, যার সঙ্গে থাকবেন হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলামরা।
এখন অপেক্ষা শেষ দিনের নাটকীয়তার। বাংলাদেশের স্বপ্ন জয়, শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য ড্র—গল টেস্ট গড়াচ্ছে রোমাঞ্চকর এক শেষ অধ্যায়ের দিকে।
স্কোরকার্ড (৪র্থ দিন শেষে):
বাংলাদেশ: ৪৯৫ ও ১৭৭/৩ (নাজমুল ৫৬*, মুশফিক ২২*, সাদমান ৭৬; রত্নায়েকে ১/১৩)
শ্রীলঙ্কা: ৪৮৫ (নিশাঙ্কা ১৮৭, কামিন্ডু ৮৭; নাঈম ৫/১২১)
বাংলাদেশ লিড: ১৮৭ রান