চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুছ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনরায় তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে। ২০২২ সালের ১৯ জুন ইউনুছ দম্পতিকে ‘দায়মুক্তি সনদ’ দেওয়া হলেও, দুদকের প্রধান কার্যালয় সেই ‘পরিসমাপ্তি প্রতিবেদন’কে পক্ষপাতদুষ্ট ও অসংগতিপূর্ণ মনে করে নতুন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংস্থাটির একটি সূত্র জানিয়েছে।
১৯৮৮ সালে পিয়ন পদে চাকরি শুরু করা ইউনুছ বর্তমানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত, যার মাসিক বেতন ৩৬ হাজার ৮৩৮ টাকা। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর শ্রীপুরে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি চট্টগ্রাম শহরে অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট, দোকান, গ্রামে বাগানবাড়ি, খামার ও জমি, এমনকি যুক্তরাজ্যে সন্তানের ব্যারিস্টারি পড়াশোনার খরচ, রোটারি ও দামি ক্লাবের সদস্যপদ এবং মেয়ের বিয়ের বিলাসবহুল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ইউনুছের নিট সম্পদ ৭৬ লাখ ৭৭ হাজার এবং তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের ৯৩ লাখ ৬২ লাখ টাকা। দুদক বলছে, জ্ঞাত আয়ের তুলনায় ইউনুছের সম্পদে ৬৭ হাজার ৩৯৬ এবং তার স্ত্রীর ১০ লাখ ৪৪ হাজার টাকার অসংগতি রয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তাদের পারিবারিক ব্যয় ৩৮ লাখ ১২ লাখ টাকা দেখানো হলেও, দুদক মনে করে এই অর্থে বিদেশে সন্তানের উচ্চশিক্ষা, হজ, বিলাসবহুল ক্লাবে সদস্যপদ ও ভ্রমণের খরচ মেটানো অসম্ভব।
ইউনুছের ছেলে শ্রীপুর মৌজায় ৮ শতক জমি কিনেছেন, যেখানে একটি মার্কেট নির্মাণাধীন। তিনি বহদ্দারহাটে ‘পিউর অ্যান্ড লাক্সারি’ নামে দোকানে প্রায় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। দুদকের অভিযোগ, ডেইরি ও মৎস্য চাষের দাবি সত্ত্বেও ইউনুছ সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তিনি চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতি, সিজেকেএস ও আগ্রাবাদ কমরেড ক্লাবের সদস্য।
দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, কমিশনের নির্দেশ পেলে তদন্ত শুরু হবে। অভিযোগ রয়েছে, দুদকের সাবেক কর্মকর্তা লুৎফুল কবীর চন্দনকে ‘ম্যানেজ’ করে ইউনুছ দায়মুক্তি সনদ নিয়েছেন। তবে লুৎফুল কবীরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউনুছ দাবি করেন, দুদক তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি। তিনি ওআর নিজাম রোডের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন, দোকানটি তার ছেলের এবং ক্লাবের সদস্যপদে কোনো খরচ হয়নি।