বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের ক্যারিয়ার নতুন মোড় নিচ্ছে। ক্যারিবিয়ান বিশ্বকাপে আলো ছড়ানোর পর এবার অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগেও তার প্রতিভার স্বীকৃতি মিলেছে। হোবার্ট হারিকেনস টানা দ্বিতীয়বারের মতো দলে টেনেছে ২৩ বছর বয়সী এই স্পিনারকে। তবে এবার আর আগের মতো কাগজে-কলমে থাকা নয়—পুরো মৌসুমই খেলতে পারবেন রিশাদ, এমনটাই নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ।
গতবার নানা জটিলতায় খেলা না হলেও হোবার্টের নজর রিশাদের ওপর ছিল আগেই। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স নজরে আসে হোবার্ট মেন্টর রিকি পন্টিংয়ের। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক এই তরুণ লেগিকে দলে টানতে আগ্রহী ছিলেন শুরু থেকেই।
বিগ ব্যাশের অফিসিয়াল পডকাস্টে সাবেক ক্রিকেটার অ্যারোন ফিঞ্চ জানালেন, 'রিকি পন্টিং তার খুব প্রশংসা করেছে। ডানহাতি লেগ স্পিনারদের মধ্যে রিশাদ ছিল আমাদের পছন্দের তালিকায়। আমার মনে হয় দ্বিতীয় রাউন্ডেই তাকে তুলে নেয় হোবার্ট। সে বল টস করতে ভয় পায় না। হোবার্টের মূল থিমই হলো, তারা মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট চায়—রান নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নয়।'
ফিঞ্চ আরও বলেন, 'বাংলাদেশি একজন লেগ স্পিনার হিসেবে সে খুব ভালো করছে। সে আলাদা—একেবারেই আলাদা। অনেকেই যেমন দ্রুত গতিতে বল করে, রিশাদ তার চেয়ে ধীর কিন্তু বৈচিত্র্যময়। চাপের মধ্যেও গতি নিয়ন্ত্রণ করে। গত বিশ্বকাপে সে খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি, কিন্তু যে কয়টি খেলেছে তাতেই প্রমাণ করেছে সে বিশ্বমানের।'
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির অন্যতম সেরা স্পিনার রশিদ খানের সঙ্গে তুলনা করে রিশাদের বৈচিত্র্যকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন ফিঞ্চ, 'রশিদ খান যেখানে দ্রুত গতিতে বল করে, সবসময় স্টাম্পে বল রাখে—রিশাদ ঠিক তার উল্টো। সে বল টস করে, গতি পরিবর্তন করে এবং ব্যাটারদের আটকে রাখে। সে খুব ভালো গুগলি করে। ক্যারিবিয়ান বিশ্বকাপে সে দুর্দান্ত ছিল।'
রিশাদ হচ্ছেন সাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার, যিনি বিগ ব্যাশে সুযোগ পেলেন। তবে ড্রাফট থেকে সরাসরি দল পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি তিনিই। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় অর্জন।
বিগ ব্যাশের মতো প্রতিযোগিতামূলক আসরে এবার যদি রিশাদ নিজেকে মেলে ধরতে পারেন, তাহলে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ আবারও পাবে নতুন এক দূত। তার চোখে এখন শুধুই খেলার মাঠ—আর পেছনে রয়ে গেলো একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু।