বনাবনি না হওয়ায় দুই বছর ধরে মো. হানিফ ও নুরজাহান আক্তার আঁখি দম্পতি আলাদা থাকত। নুরজাহান চলে যান বাবার বাড়ি চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায়। দুই বছর ধরে তিনি (নুরজাহান) সেখানেই থাকছেন। তিন বছর বয়সী একমাত্র মেয়েসন্তান হাবিবা আক্তার থাকত মায়ের সঙ্গেই। মেয়েটি ছিল হানিফের কলিজার টুকরো। সন্তানের মায়ায় সব অভিমান ছাপিয়ে মেয়েকে দেখতে প্রায়ই শ্বশুরবাড়ি ছুটে যেতেন জামাই হানিফ।
অসুস্থতার খবর পেয়ে গত ১৫ জুন সকালে শিশুসন্তান হাবিবাকে দেখতে যান হানিফ। কিন্তু সন্তানের প্রতি তার এই ভালোবাসার মূল্য দেয়নি শ্বশুরপক্ষ। সেদিন বাকবিত-ার একপর্যায়ে হানিফের প্রাণটাই কেড়ে নিল শ্বশুর, শ্যালক ও শ্যালকের বন্ধু। তিনজনই উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে জামাই হানিফকে খুন করে।
১৫ জুন ভোরে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার মাঝের ঘোনা গলাচিপা কাঁচা রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটলেও গ্রেপ্তারের পর বুধবার আদালতে হানিফকে খুনের দায় স্বীকার করে শ্বশুর খোরশেদ মোল্লা ও শ্যালক আরিফ মোল্লা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। শ্যালক আরিফ মোল্লার বন্ধু দেলোয়ার হোসেন, হানিফের স্ত্রী নুরজাহান আক্তার ও শাশুড়ি রহিমা বেগমকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আদালতের জবানবন্দিতে শ্বশুর খোরশেদ মোল্লা এও বলেছেন, তার মেয়ের জামাই হানিফকে হত্যার পর ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরি ধুয়ে বাড়িতে রেখে দেন। এর আগে গত ১৫ জুন সকালে জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে পুলিশ হানিফের লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদনে হানিফের শরীরে ১৭টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে পুলিশ। হানিফ হত্যার ঘটনায় তার বাবা জামাল মিয়া বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, হানিফ ও আঁখির ২০১৮ সালে বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে বাবার বাড়িতে চলে যান আঁখি। হানিফ বিভিন্ন সময় মেয়েকে দেখতে শ্বশুরবাড়িতে যেতেন। বিষয়টি শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেনে নিতে পারতেন না। এর জেরে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদও হয়। তবু হানিফ মেয়েকে দেখতে যাওয়া বন্ধ করেননি। এরই মধ্যে পারিবারিক আদালতে হানিফের বিরুদ্ধে মামলাও করেন তার স্ত্রী। তিন বছরের মেয়ে হাবিবা আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়েছে শুনে শ্বশুরবাড়িতে যান হানিফ। এর আগেই শ্বশুর খোরশেদ তার অপেক্ষায় ছুরি নিয়ে বাড়ির সামনে অপেক্ষা করছিলেন। বিষয়টি হানিফ নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। এ সময় উত্তেজিত হয়ে হানিফকে ধাক্কা দেন তার শ্বশুর খোরশেদ। এরপর শ্বশুর, শ্যালক ও শ্যালকের বন্ধু মিলে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তাকে।