দাবি ইরানের 

কাতারে হামলার পর যুদ্ধবিরতির জন্য ‘মিনতি’ করেছেন ট্রাম্প

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। তবে এই যুদ্ধবিরতি কোনো সমঝোতার ফসল নয়, বরং তা একতরফাভাবে ইরানের পক্ষ থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমনটাই জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইএনএন। খবর: বিবিসি

আজ মঙ্গলবার প্রচারিত এক বিবৃতিতে চ্যানেলটি জানায়, কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পরিচালিত ‘সফল প্রতিশোধমূলক হামলার’ পর ইরান এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়। এতে আরও বলা হয়, হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির অনুরোধ বা ‘মিনতি’ করেছেন। টেলিভিশনের উপস্থাপক নিজেই এই বিবৃতিটি পড়ে শোনান।

এই ঘোষণায় ট্রাম্পের কূটনৈতিক তৎপরতা ও যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে সরাসরি হেয় করে বলা হয়, ইরানের আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা ও জনগণের প্রতিরোধই এই যুদ্ধবিরতির মূল কারণ। একইসঙ্গে, আইআরজিসি এবং ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ‘সাহসী ও সফল অভিযানের’ প্রশংসা করে বিবৃতিতে ইরানিদের ‘প্রতিরোধ শক্তি’কে সম্মান জানানো হয়।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিপূর্বে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দাবি করেছিলেন, ইরান ও ইসরায়েল সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং এখন শান্তির সময়। তবে তেহরান থেকে প্রকাশিত এ বিবৃতি দুই দেশের মধ্যে চুক্তি বা সমঝোতার ধারণা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করছে।

এই ঘটনাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা দেখছেন তেহরানের ‘প্রচারণাভিত্তিক কৌশল’ হিসেবে, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের আঞ্চলিক শক্তি ও কূটনৈতিক ‘জয়’ তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তবে বাস্তবতা হলো, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি।