কমনওয়েলথ সনদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বর্তমান সরকার সাহসী সংস্কারের পথে অগ্রসর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি আরও বলেছেন, ‘কমনওয়েলথ সনদ শুধু একটি ঘোষণাপত্র নয়, এটি এশটি নৈতিক দিকনির্দেশক যা আমাদের সীমানা ছাড়িয়ে বেঁধে রাখে। এই মূল্যবোধগুলো আমাদের বর্তমান সংস্কার প্রচেষ্টার গভীরে প্রবাহিত।’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে কমনওয়েলথ চার্টার কর্মশালা ২০২৫- এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘বিচারকে দ্রুততর ও অধিক প্রবেশযোগ্য করার জন্য আমরা নাগরিক কার্যবিধি সংশোধন করেছি। স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিতে আমরা খুব শিগগিরই বিচার ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। গত ছয় মাসে ডিজিটালাইজেশনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পেরেছি। আগামী ছয় মাসে, আমাদের কাছে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, ন্যায়বিচার এবং ডিজিটাল নিবন্ধনসংক্রান্ত আইন থাকবে। আমরা উচ্চতর বিচার ব্যবস্থায় বিচারক নিয়োগ সংস্কার করব এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ সংশোধন করেছি। এটি ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত ও সমালোচিত আইনগুলোর একটি।’ তিনি বলেন, ‘এগুলো কিন্তু বিচ্ছিন্ন পরিবর্তন নয়, এগুলো একসঙ্গে আমাদের আইনের শাসন, সুশাসন, বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা এবং মানব মর্যাদার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন সেই মূল্যবোধগুলো যা কমনওয়েলথ সনদের মূল চেতনাকে ধারণ করে।’