রাজনীতির তৃতীয় ধারার প্রাসঙ্গিকতা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারা তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। বলা হচ্ছে, সংস্কারের মাধ্যমে আসবে এই পরিবর্তন। এ লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশন গঠন হয়েছে। সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করে সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও দেশের সংস্কার কমিশনের দেওয়া প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে অনেক বিষয়েই একমত দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপি ও তাদের সমমনারা। তারপরও সরকার চেষ্টা করছে সব দলের সঙ্গে ঐক্যে পৌঁছাতে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার তেমন নজির নেই। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেসব ঐক্য হয়েছিল, তা ছিল সাময়িক। শুধু নির্বাচন পর্যন্ত। মতের বিরোধ, ইগো, দাম্ভিকতা, অহংকার রাজনীতিকদের অনৈক্যের কারণ। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের পর দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলপ্রধানের হাসিমুখের ছবি, আমাদের অ্যালবামে আছে। ছবিটি যতবার দেখেছি ততবার মনে হয়েছে, এমন আন্তরিকতার পিঠ উল্টায় কেমন করে? কিন্তু বেশি সময় লাগেনি, সেই হাসি রক্তচক্ষুতে পরিণত হতে। কয়েক মাসের ব্যবধানে তা হয়ে ওঠে ‘সতিনের ঘর’। দেখা সাক্ষাৎ, কথাবার্তা বন্ধ। এ কারণে বেশিরভাগ ইস্যুতে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রশ্ন থাকে, রাজনীতিতে সুবাতাস কি ফিরবে? ব্রিটিশ রাজনীতিক বেনজামিন ডিসরাইলি বলেছিলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। সত্যিই তাই। শেষ হলে তো আর রাজনীতি হলো না। শেষ থেকে শুরু হয় নতুনের। দেশের রাজনীতি স্বাধীনতার পর থেকেই জটিল ও গতিশীল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে দেশটি বিভিন্ন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। সময়ের সঙ্গে ধাবিত রাজনীতির আজ এক ক্রান্তিকালে উপনীত। অতীতের ধ্যান-ধারণা, চিন্তার সঙ্গে বর্তমানে ব্যবধান অনেক। আজকের তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশকে সাজাতে চাইছে, নিজের মতো করে। যদিও অতীতকে মুছে ফেলা যায় না। অতীতের ভালো দিকগুলো লালন করে, ভবিষ্যৎ গড়তে হয়। মূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, কিছু অর্জন করা সম্ভব না। দেখার বিষয়, অতীত-বর্তমানের সম্মিলন কীভাবে ঘটে? মূলত যার ওপর নির্ভর করবে, রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিধারা। আজকের তারুণ্য শক্তিই আগামীর ভবিষ্যৎ।

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি প্রধানত দুটি বড় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।

তৃতীয় কোনো দল রাজনীতিতে শক্ত ভিত স্থাপন করতে পারেনি। কারণ এই দল দুটির রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বেশ প্রখর। এ কারণে ৯০-এর পর, রাষ্ট্রক্ষমতায় ঘুরেফিরে দল দুটির দেখা মিলেছে। যদিও দেশে রাজনৈতিক দলের সংখ্যা কম নয়। নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইটের তথ্য অনুসারে, দেশে রাজনৈতিক দল রয়েছে ৫০টি। এর বাইরে আরও কিছু দল রাজনীতির মাঠে সক্রিয়। বাস্তবতা হলো, বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দেশের জনগণের পরিচয় নেই। নির্বাচন এলেই তাদের দেখা মেলে। কেউ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জানান দেয়। কেউ সংবাদ সম্মেলন ডেকে বড় দলকে সমর্থন জানায়। এ ছাড়া সারা বছর এদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। জনগণও জানে না এ নামে একটি রাজনৈতিক দল আছে। এসব রাজনৈতিক দলগুলোর নেই কোনো অফিস, নেই গঠণতন্ত্র। কোনো কোনো দল এক নেতা পরিচয় দিয়েই চলছে। তবু তারা আছে রাজনীতির মাঠে। প্রশ্ন হচ্ছে, আসলে তারা কী উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক দল গঠন করে? এদের মূল নীতি বা আদর্শই বা কী?  নির্বাচিত হয়ে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণের জন্য নাকি দলের আবরণে অন্য কোনো উদ্দেশ্য? গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। এ কারণে রাজনৈতিক দল গঠন করে তারা মত প্রকাশ করতেই পারে। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু নির্বাচনকেন্দ্রিক পঞ্চবার্ষিক দলগুলোর উদ্দেশ্য জনগণ যদি না-ই জানতে পারে, তবে এমন দল গঠন করে লাভ কী? গত ২২ জুন ছিল নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদনের শেষ দিন। জানা গেছে, ১৪৭টি দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে আলোচনায় আছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, যারা ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে এসেছে। মূলত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতরাই এই দলের মূল চালিকাশক্তি। এর বাইরে যেসব দল নিবন্ধনের আবেদন করেছে, এর মধ্যে এমন কয়েকটি দলের নাম পাওয়া গেছে, যা রাজনীতিকে তাচ্ছিল্যের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ১৪৭টি দলের মধ্যে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলেরই নেই কোনো কার্যালয়। ছেলের বাসার ড্রইংরুম, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, সেলুনের দোকানের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে দলীয় কার্যালয় হিসেবে। যদিও নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা মানে এই নয় যে, তারা নিবন্ধন পেয়ে গেছে। এ জন্য প্রক্রিয়া আছে যেটা নির্বাচন কমিশন দেখবে। কথা হচ্ছে, যে দলের কার্যালয় নেই, কমিটি নেই, গঠনতন্ত্র নেই, জনসম্পৃক্ততা নেই তারাও রাজনৈতিক দলগঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। কোনো কোনো  ক্ষেত্রে বিষয়গুলো হাস্যকরও ঠেকছে। ধরে নিলাম, এই ১৪৭টি দলকে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন দিয়ে দিল। আগের ৫০-এর সঙ্গে নতুন ১৪৭টি দল যুক্ত হলে দেশের রাজনৈতিক দলের সংখ্যা হবে প্রায় ২০০টি। বাংলাদেশের মতো ছোট একটি দেশে এত রাজনৈতিক দল বিষয়টি কেমন জানি ঠেকে! দেশে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড়ানোর চেষ্টা অনেকেই করেছে। কিন্তু সে চেষ্টা সফল হয়নি। এই সফল না হওয়ার পেছনে কিছু কারণ আছে। প্রথমত, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ দেশের প্রবীণ এবং বড় রাজনৈতিক দল। এই দুই দলের প্রতিষ্ঠাতা দুটি আইকনিক ব্যক্তিত্ব। শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান দেশের বেশিরভাগ মানুষের মনে প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের প্রতি জনগণের অন্যরকম শ্রদ্ধা-ভালোবাসা আছে। এ কারণে তারা না থাকলেও তাদের পরিবার এখনো দলকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। জনগণও তাদের আস্থাভাজন। দ্বিতীয়ত, তৃতীয় পক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে এমন আস্থাভাজন ব্যক্তির অভাব রয়েছে। জাতিকে নতুন দিক নির্দেশনা দেওয়া বা হেমিলনের বাঁশিওয়ালার মতো জনতাকে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বলয় থেকে বের করে আনার মতো ব্যক্তিত্ব আমরা পাইনি। তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে টেক্কা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই দল দুটির শক্তির কাছে তৃতীয় কেউ দাঁড়াতে পারেনি। তারা চায়নি তাদের সমকক্ষ হয়ে কেউ রাজনীতিতে আসুক। দমন-নিপীড়নের মাধ্যমে তৃতীয় শক্তিকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তবে ৫ আগস্টের পর, সেই প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন এসেছে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আগামী নির্বাচন পর্যন্ত স্থগিত করেছে সরকার। এর ফলে রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি আবির্ভাবের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন নিবন্ধন চাওয়া দলগুলোর মধ্য থেকেও আসতে পারে রাজনীতির তৃতীয় শক্তি যা আমাদের সুস্থধারার রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ৯০-এর গণআন্দোলন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আমাদের মধ্যে আশা সঞ্চার হয়েছিল যে,  আমরা একটি সুস্থ রাজনৈতিক ধারার বাংলাদেশ পাব। পরবর্তীকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হওয়াটা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতি সুস্থ ধারায় ফেরার উপসর্গ। যেহেতু আমাদের রাজনীতিকদের মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে, অন্তত নির্বাচন ব্যবস্থাকে একটি কাঠামোতে দাঁড় করানো হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা সেটাকেও নিজেদের মতো করে ব্যবহার করেছেন। বিতর্কিত করেছে। এতে এই ব্যবস্থা নিয়েও আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে। পরিণতিতে যা হয়েছে, অনির্বাচিত সরকারকে এগিয়ে আসতে হয়েছে। বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ যেভাবে ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরেছিল, সেটা তো গণতন্ত্র না। তারা যদি স্বৈরতন্ত্র থেকে মুক্ত করতে ’৭১ ও ’৯০ সালে লড়াই করে থাকে, তবে ২০২৪ সালে তাদের স্বৈরতন্ত্রের তকমা নিয়ে কেন ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে হলো? এক সময়ের আদর্শিক দলের এমন পরিণতিতে, হয়তো রাজনীতিকরা কিছুটা হলেও লজ্জিত হবেন এবং আত্মসমালোচনা করবেন।

একজন রাজনীতিকের রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনার জন্য অনেক কিছুকেই রপ্ত করতে হয়। যুদ্ধকৌশল জানতে হয়। আমাদের অতীত রাজনীতিকদের মধ্যে এ ধরনের একটা তাড়না কাজ করত। তারা শিখে পড়ে, তবেই জনগণের সামনে মাইক ধরে দাঁড়াতেন। কিন্তু এখন টেলিভিশনে টকশো করেই কেউ কেউ হয়ে যান রাজনীতির মুখপাত্র। অনেকেই ক্ষমতার মোহে রাজনীতি করতে আসছেন। মনে করছেন রাষ্ট্রক্ষমতা মানে আধিপত্য, ক্ষমতা, অর্থ-প্রাচুর্য। কিন্তু রাজনীতি মানে শুধু রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া নয়, রাজনীতি হচ্ছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ। মুশকিল হলো, ৯০-এর পরবর্তী রাজনীতি আমাদের অধিকমাত্রায় দুর্নীতিপরায়ণ হতে শিখিয়েছে। আধিপত্য, ক্ষমতার চর্চা করতে শিখিয়েছে। হত্যা, ঘুম, খুন হয়ে গেছে আমাদের রাজনীতির মাঠে ক্ষমতাধর হওয়ার উপায়। এতে সাধারণ মানুষের চাওয়া ক্ষমতাসীনদের কাছে হয়ে যায় গৌণ। ভাবা যায়, এ দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজনীতিকরা পাচার করেছেন! এটা শুধু আওয়ামী লীগ করেছে তা কিন্তু না। জাতীয় পার্টির সময় অর্থ পাচার, দুর্নীতি হয়েছে। বিএনপির আমলেও হয়েছে। কারও আমলে কম, কারও আমলে বেশি। কিন্তু হয়েছে। তাহলে আমরা কাদের জনপ্রতিনিধি করার জন্য মরিয়া? কাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসাতে ভোট দেব? আমাদের দেশের রাজনীতিকরা সবসময় জনগণকে নিয়ে খেলা করছেন। যে খেলা এখনো চলছে। তবে যেটা রাজনীতিকরা ভুলে যায় তা হলো, জনতার শক্তি। জনতা চাইলে অনেক কিছুই উল্টে দিতে পারে। অর্থাৎ জনতাও খেলতে জানে রাজনীতিকদের নিয়ে। ১৯৯০ এবং ২০২৪ সাল বাংলাদেশের রাজনীতিকদের জন্য শিক্ষণীয় বছর। ভবিষ্যতে যারা রাজনীতিতে আসবেন, তাদের এই বছর দুটি মনে রাখলে কোনো রাজনীতিক আর বলতে পারবেন না ‘খেলা হবে’। রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযান চালানো হয়েছিল এক-এগারো সরকারের সময়। প্রায় দুবছর ক্ষমতায় থেকে ওই সরকার বড় রাজনীতিকদের আটক করে সাজার আওতায় আনার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শুদ্ধ হয়নি রাজনীতি। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী দেশ ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন। বেশ কিছু নেতা জেলে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে না পারলে, আওয়ামী লীগের অসুস্থ ধারার রাজনীতিই থেকে যাবে। ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি, আওয়ামী লীগ দেশের সব জায়গা থেকে বিতাড়িত হয়েছে। তাদের স্থলে যারা এখন প্রশাসন এবং মাঠ পর্যায়ের ক্ষমতাধর হয়ে উঠছেন, তারা অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। নতুন দলগুলোকে স্বাগত জানাতেই হবে। বোধ করি নতুন দলগুলো নতুন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাসী। অতীতের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, দখলবাজি, খুন, গুমের রাজনীতির সঙ্গে তারা যুক্ত হবে না। কিন্তু তারা যে এগুলো থেকে মুক্ত থাকবে, তার কোনো দিকনির্দেশনা আমরা পাইনি। এনসিপি তাদের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সেকেন্ড রিপাবলিক করার ঘোষণা দিয়েছে। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেন,  বাংলাদেশে  ভারতপন্থি বা পাকিস্তানপন্থি রাজনীতির ঠাঁই হবে না। তারা সেকেন্ড রিপাবলিকের মাধ্যমে নতুন সংবিধান চান। এ ছাড়াও বেশ কিছু নতুন বিষয় উঠেছে। সমস্যা হলো, তাদের  চেতনার সঙ্গে পুরনো দলগুলোর মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে। বরং নাহিদ ইসলাম যদি দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করার কোনো ফর্মুলা দিতেন, কিংবা তাদের দল রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে কীভাবে দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনা দূর করবেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে মোট কথা যদি রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো রূপরেখা ঘোষণা করতেন, তাহলে বেশি ভালো হতো।

তখন জনগণ পুরনো রাজনীতির বলয় থেকে বেরিয়ে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করবেন। সাধারণ জনগণের কাছে নতুন রিপাবলিক, সংবিধান পরিবর্তন ম্যাটার করে না। তারা চায়, কীভাবে সচ্ছলতার সঙ্গে জীবনযাপন করবেন, কীভাবে শান্তিতে বসবাস করবেন। দরিদ্র শ্রেণির মানুষ, প্রতিবন্ধকতাহীন জীবনযাত্রার ব্যয় করতে পারলেই খুশি। তারা সেকেন্ড রিপাবলিকের মর্মার্থ তেমন বোঝে না। সাধারণ মানুষের জন্য জীবনমুখী স্পষ্ট বার্তা থাকা প্রয়োজন নতুন দলগুলোর পক্ষ থেকে। কারণ রাজনীতিতে তৃতীয় ধারা জরুরি হয়ে পড়েছে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও সংবাদ বিশ্লেষক

   zakpol74@gmail.com