হাতিয়ায় পুকুরে কুমির, এলাকায় আতঙ্ক

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় একটি পুকুরে বিশাল আকৃতির একটি কুমিরের উপস্থিতি ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে যেমন কৌতূহল, তেমনি উদ্বেগও ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল থেকে কুমিরটিকে ওই এলাকার একাধিক পুকুরে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

হাতিয়ার স্থানীয়রা ধারণা করছেন, কিছুদিন আগে মেঘনা নদীতে প্রবল জোয়ারের সময় কুমিরটি নদী থেকে ভেসে এসে লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে। এমন ঘটনার নজির রয়েছে এর আগেও—২০২৪ সালের জুন মাসে একই ধরনের একটি বড় কুমির স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগের সহায়তায় উদ্ধার করে মুক্ত পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটিকে প্রথম চোখে পড়ে হাতিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাসুদ শরীফের বাড়ির পাশের একটি পুকুরে। ওই অঞ্চল মেঘনা নদীর বেশ কাছেই, এবং আজমারদোনা খালের মাধ্যমে এই নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। এলাকাবাসীর অনুমান, জোয়ারের সময় খাল বেয়ে লোকালয়ে উঠে আসে কুমিরটি। কয়েকদিন ধরেই তাকে আশপাশের পুকুর ও জলাশয়ে দেখা যাচ্ছে।

সবশেষ গতকাল সন্ধ্যায় কুমিরটির অবস্থান লক্ষ্য করা যায় মাসুদুল ইসলাম ওরফে শরীফের বাড়ির পুকুরে। স্থানীয় বনবিভাগের একজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় নিচ্ছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য কুমিরটি সনাক্ত করে উদ্ধার এবং নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে মাসুদুল ইসলাম জানান, “গতকাল রাতে অনেকে কৌতূহল নিয়ে টর্চলাইট হাতে কুমির দেখতে এসেছিলেন, কিন্তু কেউ দেখতে পাননি। আজ সকালে আমিও পুকুর ঘুরে দেখেছি, কিন্তু তার কোনো চিহ্ন পাইনি। এখন বোঝা যাচ্ছে না, কুমিরটি পুকুরেই আছে কি না। বন বিভাগের লোকেরা এলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

এ বিষয়ে নোয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক একেএম আরিফ-উজ-জামান জানান, “গ্রামে একটি কুমির দেখা যাওয়ার খবর পেয়েছি। বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা আল আমীন গাজী এবং নলচিরা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব। উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের উদ্যোগে যত দ্রুত সম্ভব কুমিরটি উদ্ধার ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া গেলে জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্ক কমবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।