কাতার বিশ্বকাপে ১৭টি হলুদ ও ১টি লাল কার্ডের আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস ম্যাচটির কথা মনে আছে! কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটির ৮৩ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি পেনাল্টি থেকে করেছিলেন লিওনেল মেসি। ৭৩ মিনিটে ডেনজেল ডামফ্রিস মার্কোস আকুনাকে ফাউল করার খেসারত হিসেবে ওই পেনাল্টি পেয়েছিলো আলবিসেলিস্তেরা। তখন থেকেই ডামফ্রিস-আকুনা দ্বন্দ্বের শুরু। যা আরও একবার প্রকাশ্য হয়ে উঠলো ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপের ইন্তার-রিভার প্লেট ম্যাচে।
৬৫ মিনিটের লুকাস মার্টিনেজের লাল কার্ডের সাত মিনিট পর গোল করে এগিয়ে যায় ইতালিয়ানরা। তখন থেকেই উত্তেজনার শুরু সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে। আর আগুনে পরিস্থিতিতে আরও ঘি ঢালেন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ ও দুইবারের কোপা আমেরিকাজয়ী মার্কোস আকুনা। ‘এল হুয়েভো’ নামে পরিচিত আকুনা ইন্তার মিলানের ডেনজেল ডামফ্রিসের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। কাতার বিশ্বকাপের সেই পুরনো রেষ যেন আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে এই ম্যাচে।
ইতালিয়ানরা ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আকুনা ডাগআউটের দিকে চিৎকার করে অভিযোগ করেন, ‘তুমি কথা বলছো, কাপুরুষ!’– দাবি ছিল, কেউ একজন তাকে গালিগালাজ করেছেন। রেফারি ইলগিজ তান্তাশেভ কিংবা তার সতীর্থরাও সে সময় তাকে শান্ত করতে পারছিলেন না।
যোগ করা সময়ে আরেক গোল হজমের পর আবার সংঘর্ষ বাঁধে ডামফ্রিসের সঙ্গে। একটি চ্যালেঞ্জের পর দুজনের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম হয়। আকুনা উঠে দাঁড়িয়ে একরকম মাথা ঠোকান এবং ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এই সংঘর্ষে গনজালো মন্টিয়েল লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
তবে ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। খেলা চলাকালীনই ডামফ্রিস ইঙ্গিত দেন মাঠের বাইরে গিয়ে লড়ার জন্য, এবং আকুনা সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান! ম্যাচ শেষ হতেই জয়ী দলের ডামফ্রিস সোজা ড্রেসিং রুমের দিকে দৌড় শুরু করেন। আর তার পেছন পেছন ছুটে যান আকুনা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। ইন্তার কোচ ক্রিশ্চিয়ান চিভুও দৌড়ে আসেন পরিস্থিতি সামাল দিতে।
শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা প্রশমিত হলে মাঠে ফেরে সৌহার্দ্য। ইন্তারের আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লাউতারো মার্টিনেজ রিভার খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা জানান এবং কোচ মার্সেলো গ্যালার্দোর সঙ্গে কথাও বলেন। ‘আমি তাকে বলেছি, তার খেলা ও ম্যাচের কৌশল আমার ভালো লেগেছে,’ বলেন লাউতারো। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে গায়ার্দো বলেন, ‘আমি বুঝি খেলোয়াড়দের হূদস্পন্দন তখন খুবই উচ্চ ছিল, তবে ম্যাচের শেষটা একটু দুঃখজনকভাবে হয়েছে। এটা আমাদের দলীয় চিত্র নয়।’
মাথা গরম করা অংশটুকু বাদে মাঠের খেলায় দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান ৩৩ বছর বয়সী আকুনা। ইন্তার মিলানের অন্যতম আক্রমণভাগের ভয়ংকর খেলোয়াড় ডামফ্রিসকে প্রায় পুরো সময়ই আটকে রাখেন তিনি। এমনকি লাউতারো মার্তিনেজের একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ পা ছুঁইয়ে ভেস্তে দেন। তবে এই হারে আসর থেকে ছিটকে যাওয়ার বিদায় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আকুনা ও তার দলকে। সেই সঙ্গে বোকা জুনিয়র্সের পর দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন ক্লাবটিরও বাদ পড়তে হলো গ্রুপ পর্ব থেকে।