ফরিদপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে ১৫ মাদক কারবারি আটক

ফরিদপুর শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় মাদকবিরোধী যৌথ বাহিনী অভিযানে নারী-পুরুষসহ ১৫ জন মাদক কারবারিকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। এ সময় ৬১টি দেশীয় অস্ত্র ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

শহরের গুহ লক্ষ্মীপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত বারোটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত রেলওয়ে বস্তিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী আস্তানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে আলোচিত মাদক চক্রের প্রধান শিল্পী বেগম (৩০) এবং তার পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।

যৌথবাহিনী এবং সেনা সূত্রে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পে লক্ষ্মীপুর রেলওয়ে বস্তি এলাকায় চলমান মাদক পাচার, জোরপূর্বক দখলদারিত্ব এবং স্থানীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক অভিযোগ আসছিল। এরপরই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিল্পী বেগম ও তার পরিবারের বসতবাড়িতে অভিযানি নামে যৌথ বাহিনী। এ সময় সেখানে নারীদের ব্যবহার করে প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইন বিক্রি করা হচ্ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে ৭ জনকে হাতেনাতে মাদক বিক্রির সময় আটক করা হয়। এরপর এলাকাজুড়ে পরিচালিত তল্লাশি ও বস্তির কেন্দ্রে অবস্থিত শিলপির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে এবং আরও আটজনকে আটক করা হয়। অভিযান চলাকালে শিল্পীর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের সময় উদ্ধার করা হয়েছে ৪৬ কেজি গাঁজা, ৩৩৭টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ২১১টি হেরোইনের প্যাকেট, ৬১টি দেশীয় অস্ত্র, ২টি বিদেশি মদের বোতল, ৯টি ফিচার ফোন এবং ১০টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন রয়েছে। বর্তমানে আটককৃত ১৫ জন নারী এবং পুরুষ মাদক ব্যবসায়ীকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

সেনা সূত্র মতে জানা যায়, অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে সেনাবাহিনী। অপরাধ দমনে সেনা ক্যাম্পসমূহকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করার জন্য ফরিদপুর বাসির কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ধরনের অভিজন অব্যাহত থাকবে বলেও জানা যায়। এ অভিযানে ১৫ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন ও পুলিশের একটি বিশেষ টিম পরিচালনা করে।