বাফুফের ট্রায়ালে কমেছে প্রবাসী ফুটবলার

এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে ১০ জুন যখন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ, এর আগে ঢাকা স্টেডিয়ামে ছিল উপচে পড়া ভীড়। হামজা চৌধুরীদের দেখতে স্টেডিয়ামে ঢোকার মুখে দর্শকরা ভীড় জমাতো। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনও জাতীয় স্টেডিয়ামের গেটের সামনে উৎসুক জনতার ভীড়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ট্রায়ালে আসা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের দেখতে এমন ভীড়। আজ আনুষ্ঠানিক ট্রায়াল শুরুর আগে ফুটবলার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ওরিয়েন্টশন করিয়েছে বাফুফে।

আগামী ২৮-৩০ জুন জাতীয় স্টেডিয়ামে ৫২ জন ফুটবলারের ট্রায়ালে অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছিল বাফুফে। কিন্তু গতকাল বিকেলে ওরিয়েন্টশন ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের সময় ৪৩ জন উপস্থিত ছিলেন। পাঁচজন কাতারের দোহা থেকে ঢাকার পথে। এর মানে ৪৮ জন নিয়ে হবে ট্রায়াল। ডেনমার্ক প্রবাসী সাকিব মাহমুদ এই ট্রায়ালের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। ৫২ থেকে সংখ্যা কমার কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, 'অতি সম্প্রতি দুইজন ফুটবলার ইনজুরিতে পড়েছে।  ফ্লাইট সংকটের জন্য একজনের রিশিডিউল হয়েছে। পাঁচ জন সেখানে আটকে ছিল ফ্লাইট বন্ধ থাকায়। তারা এখন দোহা থেকে ঢাকার পথে রয়েছে।’

ওরিয়েন্টশনে থাকা ৪৩ জনের মধ্যে ৪১ জন সাকিব মাহমুদের মাধ্যমে এসেছেন। পথে থাকা পাঁচ জনের মধ্যে তিনজনও তার মাধ্যমে আসছেন। বাকিরা নিজ উদ্যোগে ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এসেছেন। শুরু থেকেই সাকিব মাহমুদের সঙ্গে বাফুফের পক্ষ থেকে যোগাযোগ রাখছিলেন বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। কিন্তু বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন না। গতকাল আবার ওরিয়েন্টশনের দিন এসে যথারীতি গণমাধ্যমের সামনে হাজিরও হয়েছেন।

৩০ জুন ট্রায়াল শেষে নির্বাচিত বা সম্ভাব্য যোগ্যদের তালিকা কখন প্রকাশ হবে এ নিয়ে ফুটবলাঙ্গনে কৌতুহল রয়েছে। জাতীয় স্টেডিয়ামে বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অপেক্ষার কথাই শোনালেন, 'আমাদের টেকনিক্যাল বিভাগের কাছে ট্রায়ালে অংশ নেয়া ফুটবলারদের তথ্য, ভিডিও থাকবে। আমাদের কোচদের যখন প্রয়োজন হবে তখন সেই তথ্যের ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের ডাকবে।'

চলমান এই ট্রায়াল মূলত আসন্ন এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ও এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টে মেধাবী ফুটবলারের সন্ধানে। ঐ দুই দলের কোচ এখনও ঠিক হয়নি। দুই দলের কোচ চূড়ান্ত হলে সেই কোচ এই ট্রায়ালে থাকলে তিনি পরিকল্পনা সাজাতে পারতেন। দুই দলের কোচ ঠিক না করেই এই ট্রায়াল করে কতটুকু উপকারের আসবে সেই প্রশ্ন নতুন করে উঠেছে। তিন দিনের ট্রায়ালে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার, কোচরা থাকবেন। যে কোনো ট্রায়ালের আগে বিচারকদের মধ্যে একটি পরিকল্পনা সভা কিংবা আলোচনা হয়।