ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতা ও আগ্রাসন চলছেই। গতকাল শুক্রবার আল জাজিরা জানায়, উপত্যকা জুড়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে অন্তত ৭২ জন নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ হারানো মানুষেরাও আছেন। গাজা সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, গত চার সপ্তাহে অন্তত ৫৪৯ জন ফিলিস্তিনি ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র বা এগুলোর আশপাশে আরও ৪ হাজার ৬৬ জন আহত হয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিতর্কিত এই সংস্থার ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রগুলো ফিলিস্তিনিদের জন্য রীতিমতো মৃত্যুফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ত্রাণ সরবরাহ আবারও স্থগিত করেছে ইসরায়েল। এর ফলে ত্রাণবাহী কোনো ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না। বিতরণ করা ত্রাণসামগ্রী হামাস সদস্যদের হাতে চলে যাচ্ছে এমন অভিযোগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ইসরায়েলের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ত্রাণসামগ্রী যাতে হামাসের হাতে না যায়, সে জন্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি পরিকল্পনা করবে। সেটি না হওয়া পর্যন্ত গাজায় কোনো ত্রাণ ঢুকতে দেবে না ইসরায়েল। এর আগে মার্চের শুরুতে গাজায় ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। পরে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে মে মাসের শেষ দিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলোকে বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) নামে সংগঠন তৈরি করে সীমিত আকারে ত্রাণ বিতরণ শুরু করে ইসরায়েল।
অন্যদিকে, বিতর্কিত ত্রাণ সংস্থা জিএইচএফ এর জন্য সরাসরি ৩০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, জিএইচএফ-এর গুরুত্বপূর্ণ কাজকে সমর্থন দিতে আমরা অন্যান্য দেশগুলোকেও আহ্বান জানাই। সংস্থাটির কার্যক্রমের সমালোচনার বিষয়ে পিগট বলেন, সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ৬০ লাখ খাবার বিতরণ করেছে যা অবিশ্বাস্য ও প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই অঞ্চলে শান্তিপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন এবং জিএইচএফের এই উদ্যোগ তাদেরই সেই লক্ষ্য পূরণের অংশ। তবে জাতিসংঘ ও শীর্ষ আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পাশাপাশি এই সংস্থার ত্রাণ বিতরণ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে ডক্টরস উইথআউট বর্ডারস।