সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর ওপর আলাদা রেলসেতু নির্মাণের কারণে যমুনা সেতুর ওপরের রেললাইন পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ায় সেটি আর কোনো কাজেই আসছে না। ফলে সেতু কর্তৃপক্ষ যমুনা সেতুতে দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনে পরিত্যক্ত রেললাইন অপসারণ করে সড়ক প্রসস্তকরণের উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে যমুনা সেতুর পরিত্যক্ত রেললাইন অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। দিনভর রেলপথের নাট-বল্টু খোলার কাজ করতে দেখা যায় শ্রমিকদের।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির পাভেল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে যমুনা সেতুর টাঙ্গাইল অংশের রেললাইনের নাট-বল্টু খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে যমুনা সেতু ওপর পরিত্যক্ত রেলপথটির অপসারণ চেয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সেতু বিভাগ পৃথক দুটি চিঠি পাঠায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে অনুমোদনের পর এ অপসারণের কাজ শুরু করা হয়। তিনি বলেন, এ কাজ শেষ হলে সমুদয় মালামাল রেল কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন যমুনা নদীতে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের মধ্যে ৪.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণকাজ শেষ হয়। এরপর যমুনা সেতু দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। পরে যমুনা সেতুতে রেল সংযোগের দাবিতে তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন রেল বিভাগ আন্দোলন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে যমুনা সেতুতে রেললাইন স্থাপনের ঘোষণা দেয়। বিদ্যমান সড়ক সেতুর উত্তরপাশ দিয়ে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে তৈরি করা হয় রেলসেতু। ২০০৪ সালের ১৫ আগস্ট যমুনা সেতুতে আনুষ্ঠানিকভাবে রেল চলাচল শুরু হয়। দ্রুত গতিতে ট্রেন চলাচলের কারণে ২০০৬ সালে সেতুতে ফাটল দেখা দেয়। পরে ট্রেন চলাচলের গতিসীমা ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার করা হয়। এতে একটি ট্রেনকে সেতু পার হতে ২২ মিনিট সময় লাগে। এ কারণে সেতুর দুই প্রান্তে ট্রেনের জট বেঁধে যায়। এই সমস্যার কথা বিবেচনা করে ২০২০ সালে যমুনা সেতুর ৩০০ মিটার উজানে সমান্তরাল পৃথক রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় সরকার।