দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার রনটি গ্রামে একটি পুকুর থেকে সাধন চন্দ্র রায় (২২) নামে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের ৪ দিনের মাথায় ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য সাধন চন্দ্র রায়কে হত্যা করে মরদেহ ও মোটরসাইকেল পুকুরে ফেলে দেয় বন্ধু মনোজিৎ রায় (২০)।
শনিবার (২৮ জুন) দুপুরে আলোচিত এই হত্যাকান্ডের বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মারুফাত হোসেন।
এর আগে ২৫ জুন সকালে বুধবার রনটি গ্রামের একটি পুকুর থেকে সাধক চন্দ্র রায়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সাধক চন্দ্র রায় (২২) ইশানিয়া ইউনিয়নের রনটি গ্রামের মিনাল চন্দ্র রায়ের মাত্র ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে ওষুধের ব্যবসা করতেন।
অপরদিকে আটক মনোজিৎ কুমার রায় (২০) তপন কুমার রায়ের ছেলে। সাধক চন্দ্র রায় ও মনোজিৎ কুমার দুইজনেই বন্ধু ছিলেন।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৩ মে মনোজিৎ সাধনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নেন। চুক্তি ছিল ৩ জুনের মধ্যে তা পরিশোধ করবেন এবং সঙ্গে অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা দেবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও টাকা ফেরত না দেওয়ায় সাধনের পরিবারের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর সাধনের মা মনোজিতের মাকে বিষয়টি জানালে তিনি ছেলেকে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মনোজিৎ ২৩ জুন সোমবার রাতে সাধনকে ডেকে নিয়ে যান ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বাড়ির পুকুরপাড়ে। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাসের লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ও সাধনের ব্যবওহৃত মোটরসাইকেলটি পুকুরে ফেলে দেন। ২৫ জুন সকালে বুধবার পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ও সিআইডির একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
তিনি আরও জানান, বুধবার সাধনের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে মনোজিৎকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে। শনিবার সকালে তাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং পুকুর থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করি।
এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সিফাত-ই-রাব্বানী, কাহারোল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ও বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান জাহিদ সরকার উপস্থিত ছিলেন।