ন্যাটো সহায়তা দিলে পুরো ইউক্রেন দখলের হুমকি পুতিনের

সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যরা ইউক্রেনকে ৩৫ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি পুরো ইউক্রেন দখলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

পুতিনের এই মন্তব্যকে বৃহৎ সংঘাতের উস্কানি হিসেবে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

এই সতর্কবার্তা এসেছে চলতি সপ্তাহে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের পর। সম্মেলনে নেতারা রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের বিপরীতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

২০ জুন সেন্ট পিটার্সবার্গে এক সম্মেলনে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, আমি বহুবার বলেছি, রুশ ও ইউক্রেনীয়রা একই জাতি। এই অর্থে, পুরো ইউক্রেনই আমাদের। আমাদের পুরোনো প্রবাদে আছে, রুশ সেনা যেখানে পা রাখে সেটেই আমাদের হয়ে যায়।

পুতিনের এই কথার জবাবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা বলেন, যেখানে রুশ সেনা যায়, সেখানে শুধু মৃত্যু, ধ্বংস আর নরক নেমে আসে।

২১ জুন টেলিগ্রামে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি লেখেন, পুতিন এবার একেবারে খোলাখুলি বলেই দিয়েছেন, হ্যাঁ, তিনি পুরো ইউক্রেন চান। শুধু তা-ই নয়, তিনি বেলারুশ, বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো, মলদোভা, ককেশাস এবং কাজাখস্তানের কথাও বলছেন।

ন্যাটো সেক্রেটারি-জেনারেল মার্ক রুটে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডা ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে সামরিক সহায়তা হিসেবে কিয়েভকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’

তিনি আরও জানান, এ বছরের মোট সহায়তার পরিমাণ ইতিমধ্যেই ৪ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত বছর সহায়তার পরিমাণ ছিল ৫ হাজার কোটি ডলার। এই প্রতিশ্রুত সহায়তার বেশিরভাগই যাবে যুক্তরাষ্ট্রে। কারণ ইউক্রেনের কাছে এমন শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই যা রাশিয়ার বিমান হামলা ঠেকাতে পারে।