খেলোয়াড়দের মতো আম্পায়ারদেরও 'শাস্তি' চান রোস্ট চেজ

ব্রিজটাউন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর আম্পায়ারিং নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের নতুন অধিনায়ক রোস্টন চেজ। ইংল্যান্ডের ব্রুস অক্সেনবরো ও ভারতের নিতিন মেননের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে চেজ বলেন, খেলোয়াড়দের যদি ছোটখাটো ভুলের জন্যও বড় ধরনের শাস্তি পেতে হয়, তবে ম্যাচ কর্মকর্তাদের (আম্পায়ার ও রেফারি) ভুলের পরেও কেন কোনো জবাবদিহি থাকে না? 

তিনি বলেন, “খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যদি আমরা কোনো ভুল করি, কিংবা এমন কিছু করি যা মানুষ পছন্দ করে না, আমাদের কড়া শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু আম্পায়ারদের কিছুই হয় না। তারা ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা সন্দেহজনক সিদ্ধান্ত দেয়, তারপর সবকিছু আগের মতোই চলতে থাকে। এটা আমার কাছে খুবই অন্যায় মনে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারের প্রশ্ন জড়িত। একটা বাজে সিদ্ধান্তে কারও ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যেতে পারে। আমি মনে করি, মাঠে খেলোয়াড়রা যেভাবে শাস্তি পায়, তেমনি স্পষ্ট ভুল সিদ্ধান্তের জন্য আম্পায়ারদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।”

তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়াকে তুলনামূলক কম স্কোরে অলআউট করার পরও একের পর এক বিতর্কিত আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত দলের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দেয়।
বার্বাডোজে জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেটার বলেন, “এই ম্যাচটা আমাদের জন্য খুব হতাশার। আমরা অস্ট্রেলিয়াকে কম রানে গুটিয়ে দিয়েছিলাম, তাতে আমরা খুশি ছিলাম। কিন্তু তারপর ম্যাচে অনেক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আসে এবং একটাও আমাদের পক্ষে যায়নি। আপনি মাঠে সবটা দিচ্ছেন, লড়ছেন, তারপর যখন কিছুই আপনার পক্ষে যায় না—তখন সেটা হৃদয় ভেঙে দেওয়ার মতো।”

চেজ জানান, পিচটা শুরুতে কঠিন ছিল, তবে একবার সেট হয়ে গেলে রান তোলা সহজ। তিন ও শাই হোপ যখন ভালো পার্টনারশিপে ছিলেন, তখন কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তাদের বড় লিড গড়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, “আপনি দেখেছেন, যারা পিচে সেট হয়েছে, তারা কীভাবে রান তুলেছে। এটা এমন একটা উইকেট, যেখানে একবার সেট হয়ে গেলে রান আসবে। কিন্তু সেট হতে পারাটাই সবচেয়ে কঠিন। আমি আর শাই ভালো খেলছিলাম, তারপর কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এসে আমাদের বড় লিড গড়ার সুযোগ নষ্ট করে দেয়। এটা স্পষ্ট—যেকোনো খেলোয়াড়ের খারাপ লাগবে, কষ্ট হবে এমন পরিস্থিতিতে। আপনি মাঠে জেতার জন্য খেলছেন, নিজের সবটা উজাড় করে দিচ্ছেন, আর তখনই মনে হচ্ছে যেন সবাই আপনার বিপক্ষে।”