কবি আবুল হোসেনের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি আবুল হোসেনের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রবিবার। ২০১৪ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কবি আবুল হোসেনের প্রথম কবিতার বই ‘নব বসন্ত’ প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে। আধুনিক মুসলমান বাঙালি কবিদের মধ্যে তার কবিতার বই-ই প্রথম প্রকাশিত হয়।

তার অনুবাদ কবিতাগুলো হলো ‘ইকবালের কবিতা’, ‘আমার জন্মভূমি’, ‘অন্য ক্ষেতের ফসল’। ২০০০ সালে ‘আমার এই ছোট ভুবন’, ২০০৫ সালে ‘আর এক ভুবন’ নামে দুটি স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ লিখেছেন তিনি। ‘অরণ্যের ডাক’ তার অনুবাদ উপন্যাস। ‘পার্বত্যের পথে’ নামক ভ্রমণ কাহিনিও লিখেছেন তিনি। এ ছাড়া তার আরও অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে।

কবি আবুল হোসেন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট খুলনার তৎকালীন বাগেরহাট মহুকুমার ফকিরহাট থানার আড়ুয়াডাঙা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক গ্রাম দেয়াড়া। খুলনা জেলার রূপসা থানায় এই গ্রাম। বাবা এস এম ইসমাইল হোসেন পুলিশ বিভাগে কাজ করতেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হন।

লেখাপড়া করেছেন কৃঞ্চনগর কলেজিয়েট স্কুলে, কুষ্টিয়া হাইস্কুলে, কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। অর্থনীতিতে সম্মান পর্যায়ের স্নাতক। সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে।

সরকারি চাকুরে ছিলেন। প্রথম আয়কর বিভাগে কাজ করেন, পরে রেডিওতে। তারপরে তথ্য বিভাগে। সরকারি চাকরি শেষ হওয়ার সময় (১৯৮২) পদমর্যাদা ছিল যুগ্ম সচিবের। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য নিযুক্ত ছিলেন, কিন্তু কাজে যোগ দেননি। কয়েক বছর ব্যাংককে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরি করেছেন। এক সময় বাংলাদেশের চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর কিছুদিন মধুমেহ রোগের নিরাময়, প্রতিরোধ ও গবেষণা-সংক্রান্ত জাতীয় প্রতিষ্ঠান বারডেমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বাংলা একাডেমি ফেলো। বাংলা একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন। স্ত্রী সাহানা হোসেন লেখক আকবর উদ্দিনের বড় মেয়ে। বিয়ে হয় ১৯৫৮-তে। হঠাৎ করে ১৯৯৪ সালে মারা যান। তাদের দুই ছেলে, দুই মেয়ে। বিজ্ঞপ্তি