৪ ঘণ্টা ৩৮ মিনিটের ম্যাচ জিতে ক্লাব বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে চেলসি

এটা যেন এক ‘অশেষ’ ম্যাচের গল্প। একে তো ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে দীর্ঘ মৌসুমের একটিতে নিজেদের ৬১তম ম্যাচ খেলছে চেলসি, তার উপর যুক্ত হলো প্রকৃতির খামখেয়ালি ও ভিএআরের হস্তক্ষেপ। তবে সব কিছুকে পেছনে ফেলে অতিরিক্ত সময়ে ক্রিস্টোফার এনকুঙ্কুর গোলে ক্লাব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে এনজো মারেসকার দল।

৪ ঘণ্টা ৩৮ মিনিটের নাটকীয় ম্যাচটি শেষ হয় চেলসির ৪-১ গোলের জয় দিয়ে।

প্রথমার্ধে অধিনায়ক রিস জেমসের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে এগিয়ে যায় চেলসি। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে বজ্রঝড়ের কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায় প্রায় দুই ঘণ্টা। ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে বজ্রপাতের সময় মাঠ খালি করতে বলা হয় প্রায় ২৬ হাজার দর্শককে, খেলোয়াড়দের পাঠিয়ে দেওয়া হয় ড্রেসিংরুমে। শেষ পাঁচ মিনিট বাকি থাকতেই খেলা বন্ধ হয়। পরে খেলা শুরু হলেও পরিস্থিতি বদলে যায়।

৯৫তম মিনিটে ভিএআরের হস্তক্ষেপে পেনাল্টি পায় বেনফিকা। ৩৭ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া স্পট কিক থেকে গোল করে ম্যাচ নিয়ে যান অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ে বদলি হিসেবে নামা এনকুঙ্কু, যিনি বর্তমানে ট্রান্সফার তালিকায় রয়েছেন, ১০৮তম মিনিটে গোল করে চেলসিকে আবার এগিয়ে দেন। ময়েসেস কাইসেদোর শট গোলরক্ষকের হাত ফসকে বেরিয়ে এলে তা জালে পাঠিয়ে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

এরপর বেনফিকার ১০ জনের দল আরও হোঁচট খায়। পরপর দুই গোলে চেলসি বড় জয় নিশ্চিত করে। পেদ্রো নেতো ও কিয়ার্নান ডিউসবেরি-হল পাল্টা আক্রমণে গোল করেন।

কাইসেদো আগেই হলুদ কার্ড দেখায় পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না। কুকুরেলা প্রথমার্ধে ছিলেন চেলসির সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ, বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেন।

ফ্রি-কিক থেকে রিস জেমসের গোল ছিল চেলসির হয়ে ২০২৫ সালের তৃতীয় ফ্রি-কিক গোল। চেলসির পরবর্তী প্রতিপক্ষ পালমেইরাস, যেখানে খেলবেন ভবিষ্যতের চেলসি ফুটবলার উইলিয়ান এস্তেভাও। মারেসকার পরিকল্পনায় হয়তো এনকুঙ্কুর জায়গা নেই, তবে শেষ হাসি তার পায়েই। ক্লাব বিশ্বকাপে চেলসির এগিয়ে চলা নিশ্চিত করলেন তিনিই।

এটা ছিল শুধুই জয় নয়, প্রকৃতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে এক পরীক্ষা জয় করার গল্পও।