সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হতে পারে এশিয়া কাপ

দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর কেটেছে অন্ধকার। ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ছায়ায় অনিশ্চয়তায় পড়া এশিয়া কাপ আয়োজন নিয়ে এবার আশাবাদী হচ্ছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। যদিও এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি, তবে সব ঠিকঠাক চললে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই মাঠে গড়াতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত এশিয়া কাপ।

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, এশিয়া কাপ ২০২৫ শুরু হতে পারে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে। এবারের আসরটি অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। অংশ নেবে ৬ দল। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর মধ্যে কিছু প্রোমোশনাল কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে বলেও জানা গেছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের আসরের স্বাগতিক ভারত, তবে বাস্তবতার প্রেক্ষিতে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম আছে সবার উপরে। এর পাশাপাশি হাইব্রিড ফরম্যাটে আয়োজনের কথাও উঠছে, যেখানে কিছু ম্যাচ হতে পারে অন্য কোনো দেশে।

প্রসঙ্গত, আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল—যখনই ভারত বা পাকিস্তান স্বাগতিক হবে, নিরাপত্তার কারণে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে।

এপ্রিলে কাশ্মিরের পেহেলগাম হামলা এবং পরবর্তী সময়ে ভারতের অপারেশন সিঁদুর, পুরো বিষয়টিকে নিয়ে আসে রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে। ভারতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের দাবিও উঠেছিল। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না খেলা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের এই টানাপোড়েন এশিয়া কাপ আয়োজন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল।

এমনকি আইসিসির পরবর্তী সভায় বিশ্বমঞ্চে ভারতের পাকিস্তান বয়কটের বিষয়টিও আলোচনায় আসার কথা শোনা গিয়েছিল।

এটি বোঝায়, অন্তত বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ বন্ধ হচ্ছে না। এবং এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে, এই ম্যাচগুলো আইসিসি, এসিসি ও অন্যান্য বোর্ডের জন্য বিশ্ব ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়ের উৎস। যদিও বিসিসিআই এ অর্থের ওপর নির্ভরশীল নয়, কিন্তু অন্য বোর্ডগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বৈঠক হওয়ার কথা। তখনই হয়তো নির্ধারিত হবে চূড়ান্ত সময়সূচি, ভেন্যু এবং ফরম্যাট। সেই সঙ্গে অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যাবে—রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও ক্রিকেট কীভাবে টিকে থাকে এবং তা পরিচালনার ভার কাদের কাঁধে।