ক্লাব বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জমজমাট লড়াইয়ের ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান জায়ান্ট ফ্ল্যামেঙ্গোকে ৪-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। দলের হয়ে জোড়া গোল করে নজর কেড়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
এই ম্যাচে নিজ ক্যারিয়ারের আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন কেইন—সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দ্বিতীয় মৌসুমে টানা ৪০ গোলের মাইলফলক! এই মৌসুমে তার গোল এখন ৪১টি।
খেলা শুরুর মাত্র ৬ মিনিটেই এগিয়ে যায় বায়ার্ন। জোশুয়া কিমিচের কর্নার ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন ফ্ল্যামেঙ্গোর চিলিয়ান মিডফিল্ডার এরিক পুলগার।
এর ঠিক তিন মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কেইন। ফ্ল্যামেঙ্গোর ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। বলটি লিও ওর্তিসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়।
২-০ পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি ফ্ল্যামেঙ্গো। ম্যাচের ৩৩তম মিনিটে গেরসন দুর্দান্ত এক শটে মানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে ব্যবধান কমান। তবে প্রথমার্ধেই বায়ার্নের লিওন গোরেৎসকার দূরপাল্লার শট গোলকিপার অগাস্তিন রোসিকে বিভ্রান্ত করে আবারও ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় বায়ার্ন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ডি-বক্সে মাইকেল অলিসের হাতে বল লাগলে পেনাল্টি পায় ফ্ল্যামেঙ্গো। জর্জিনহো ঠাণ্ডা মাথায় গোলরক্ষক নয়্যারকে ভুল পথে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৩-২ করেন।
ম্যাচের ৭২তম মিনিটে কিমিচের বাড়ানো পাস ধরে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কেইন, যা ম্যাচের ফলাফল কার্যত নিশ্চিত করে দেয়।
হ্যারি কেইন ছিলেন ম্যাচের সবচেয়ে বড় পার্থক্য। গোলের কৌশল, ঠান্ডা মাথা এবং শেষ পাস থেকে গোলের পরিণতি—সব দিকেই অনন্য ছিলেন তিনি।
মাঝমাঠে কিমিচ ও গোরেৎসকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।
ফ্ল্যামেঙ্গোর পুলগার ভুল গোল দেওয়ার পর নিজেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন স্ট্রেচারে। দিনটা একেবারেই ভুলে যাওয়ার মতো তার জন্য।
ফ্ল্যামেঙ্গো আগের ১১ ম্যাচে মাত্র ৫ গোল খেলেও এই ম্যাচে ৪ গোল খেয়েছে! বায়ার্ন মিউনিখ এ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত করেছে ১৫৪ গোল!
বায়ার্ন মিউনিখ আগামী ৫ জুলাই (শনিবার) কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সাঁ জার্মেইর (পিএসজি), ম্যাচটি হবে আটলান্টায়।
ফ্ল্যামেঙ্গো, যারা বর্তমানে ব্রাজিলিয়ান সিরি-আ শীর্ষে আছে, তারা ঘরোয়া লিগে ফিরবে ১৭ জুলাই সান্তোসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।
হ্যারি কেইনকে নিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের আশা আকাশছোঁয়া। সামনে পিএসজির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকলেও, এই ফর্মই যদি থাকে, তাহলে জার্মান জায়ান্টরা বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারে!