মেহেরপুরে প্রথমে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মাদরাসার ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জজ মো. তহিদুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেন গাংনী উপজেলার মোহাম্মদপুর কেলাপাড়া গ্রামের স্বপন আলী।
রায়ে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় স্বপন আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ শিশুর জবানবন্দি এবং ডাক্তারি পরীক্ষায় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আইনে এই ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। তৎসহ অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। মামলায় আসামির বয়স, অপরাধের প্রকৃতি ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই লাখ টাকার অর্থদণ্ড ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভিকটিমকে প্রদান করতে হবে। যদি ধর্ষকের সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হয়, তবে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকে তা আদায় করা হবে। সম্পদ বিক্রি করে এই অর্থ আদায় করে ভিকটিমকে প্রদানের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৬ ধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি মোখলেসুর রহমান স্বপন জানান, বাদীর অভিযোগ ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে সাজাপ্রাপ্ত স্বপন ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে নেয়। এর আগে স্বপন ওই ভিকটিমের সাথে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ঘটনার দিন সারাদিন শিক্ষার্থীরাকে নিয়ে স্বপন বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির পর রাত হয়ে গেলে গাংনী উপজেলার আকুবপুর গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে ইচ্ছার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর স্বপন পালিয়ে যান। সকালে শিশুটি ঘটনা উপস্থিত লোকজন ও তার পরিবারকে বলে। পরে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। আদালত ভুক্তভোগীর জবানবন্দি গ্রহণ করে। মামলার তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালত সাক্ষ্য জবানবন্দি গ্রহণ শেষে এই রায় প্রদান করেন এবং আদালতে উপস্থিত অভিযুক্ত স্বপনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।