জাবিতে ভবন নির্মাণে কাটা হলো অর্ধশত গাছ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণের জন্য পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের পেছনে ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সামনের জঙ্গল থেকে অর্ধশতাধিক গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। সোমবার (৩০ জুন) ভোরে গাছগুলো উপড়ে ফেলা হয়।

সরেজমিনে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের পেছনে ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সামনের জঙ্গল গিয়ে দেখা গেছে, সেখান থেকে সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় অর্ধশত গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে।

এর আগে, গত এপ্রিলে ওই স্থানটিতে সুতা টাঙিয়ে লাল পতাকা ঝুলিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষ। সেসময় একদল শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানালে কাজ স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের সম্প্রসারিত ভবনের জন্য ৫৯ কোটি টাকা ব্যায়ে ছয়তলা বিশিষ্ট ১ লাখ ৩০ হাজার বর্গফুটের ভবন নির্মাণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। ওই প্রকল্পের আওতায় ৬টি ১০ তলা বিশিষ্ট নতুন হল নির্মাণ করা শেষ। এসব স্থাপনা করতে গিয়ে এক হাজারের বেশি গাছ কাটা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা বাধা দিলেও প্রশাসন কর্ণপাত না করে ভবন নির্মাণ চালিয়ে যায়। তবে আওয়ামী সরকারের পতনের পর নতুন প্রশাসন এই প্রথমবারের মত গাছ কেটে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অংশীজনরা।

তবে প্রশাসন বলছে, গাছ কারা উপড়ে ফেলেছে সেটি তারা জানে না।

এ বিষয়ে পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী প্রশান্ত কুমার বর্মন বলেন, এই অঞ্চলটি শিয়াল, বেজি, বনবিড়ালসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর চলাচলের প্রধান পথ। এলাকাটি শুধু বসবাসের উপযোগীই নয়, বরং এর মধ্য দিয়ে একটি স্বাভাবিক চলাচলের পথ তৈরি হয়েছে, যা ব্যবহার করে বন্য প্রাণীরা খাদ্য সংগ্রহে শিকারি এলাকা বা খাদ্যভাণ্ডারের দিকে যায়। এটি কেটে ফেললে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন শুভ বলেন, উপাচার্য নিজেই আমাদের বলেছিলেন, মাস্টারপ্ল্যান না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্মাণকাজ হবে না। অথচ এখন হঠাৎ করেই সেখানে গাছ কাটা হলো— যা আগের প্রশাসনের রাতের আঁধারে গাছ কাটার ঘটনার পুনরাবৃত্তি। আমরা একাডেমিক ভবনের বিপক্ষে না, কিন্তু চাই পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত উন্নয়ন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক নাসিরউদ্দিন বলেন, আজ এখানে গাছ কেটেছে কারা, আমি জানি না। বিষয়টি আমার জানা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ ও প্রকৃতির বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এই প্রকল্প নিয়ে একটি প্রক্রিয়া চলমান আছে। এরপরও প্রশাসনের অগোচরে হঠাৎ এতগুলো গাছ কাটা হয়েছে, এটা তদন্ত করে দেখা হবে।